| বঙ্গাব্দ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ ফোরাম’ গঠনের ঘোষণা এবি পার্টির | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-06-2026 ইং
  • 25389 বার পঠিত
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ ফোরাম’ গঠনের ঘোষণা এবি পার্টির | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: এবি পার্টি

ডিজিএফআই তুলে নিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের চাপ দিয়েছিল: মধুর ক্যানটিনে সারজিস আলমের জবানবন্দি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশজুড়ে ‘গণভোটে হ্যাঁ ফোরাম’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি দাবি করেছেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার জুলাই সনদের পক্ষে ইতোমধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন এবং এই বিপুল জনমতকে ঐক্যবদ্ধ করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।

গত বুধাবর (১০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যানটিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক ছাত্র সমাবেশে এবি পার্টির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান, সনদ ও গণভোটের রায়; রাজবন্দীদের অভিজ্ঞতা ও জবানবন্দি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বৈপ্লবিক ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ’।

সরকার মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছে: মজিবুর রহমান মঞ্জু

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “নজিরবিহীন জুলাই অভ্যুত্থানের পর এদেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী হয়েছে। আমরা যে নতুন বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, শহীদদের সেই রক্তস্নাত স্বপ্ন কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও জুলুম আমাদের সবাইকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। আজ ফ্যাসিবাদীরা পালিয়ে গেছে বলেই আমরা কেউ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, আবার কেউ বিরোধী দলে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছি।”

বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, “আমাদের কাছে বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, যাঁরা এখন সরকারে আছেন, তাঁরা জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ও চেতনা থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছেন। আবার তাঁরা ভাবছেন, আমরা কেবল তাঁদের খারাপ দিকগুলোই দেখছি এবং অযথা সমালোচনা করছি।” এই রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে সুস্থ গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সরকারকে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়ে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ডিজিএফআইয়ের টর্চার সেলের রোমহর্ষক বিবরণ দিলেন সারজিস আলম

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনালিস্ট কোয়ালিশন পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সিপাহসালার সারজিস আলম। তিনি জুলাই বিপ্লব চলাকালে শেখ হাসিনা সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার নির্মম নির্যাতনের জবানবন্দি দিয়ে বলেন, “জুলাই গণ–অভ্যুত্থান যখন চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছিল, তখন স্বৈরাচারী সরকার তাদের বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের (DGFI) মাধ্যমে আমাকে এবং হাসনাতকে (বর্তমানে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য) সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তুলে নিয়ে যায়। গোপন টর্চার সেলে রেখে আমাদের ওপর আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য তীব্র মানসিক চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”

সারজিস আলম আরও বলেন, “সেখানে আমাদের মুখ দিয়ে জোর করে বলানো বক্তব্য সুপরিকল্পিতভাবে কাট–কপি-পেস্ট করে দেশের পরাধীন মূলধারার টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রচার করা হয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত, বাংলাদেশপন্থী ও সত্যনিষ্ঠ কিছু সাহসী সাংবাদিক আমাদের মূল বক্তব্য ও আন্দোলনের আসল বার্তা আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে তুলে ধরেন, যার ফলে স্বৈরাচারের প্রোপাগান্ডা নস্যাৎ হয়ে যায়।” তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে নতুন বাংলাদেশের চিরন্তন সংগ্রাম ও স্বপ্নের প্রতীক বলে আখ্যায়িত করেন।

বিএনপি আওয়ামী লীগের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে: খালিদ হাসান

সমাবেশে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা ছাড়া গণ–অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য কোনোভাবেই পূরণ হবে না। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে বিএনপিও পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার রাজনীতি করছে। কেবল জুলাই সনদই পারে সাধারণ মানুষের সত্যিকারের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে। সরকার হিসেবে বিএনপিকেই এখন দেশের সাধারণ মানুষের ভোট ও মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।”

বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্সের সভাপতিত্বে এবং মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মাসুদ রানা জুয়েল, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আকিব হাসান, জুলাই রেভোল্যুশন অ্যালায়েন্সের সহসভাপতি আহমেদ সামরান, জুলাই রাজবন্দী অ্যালায়েন্সের মুখ্য সংগঠক অর্ণব হুসাইন, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সিরাজুম মনিরা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামসুজ্জামান অমি প্রমুখ। বক্তারা প্রত্যেকেই জুলাইয়ের রাজবন্দীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency