ভূমি সেবায় আমূল পরিবর্তন: ১৯৫০ থেকে ২০২৫—নাগরিকের অধিকার ও এসিল্যান্ড অফিসের ডিজিটাল বিপ্লব
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়টি হলো জমিজমা। ১৯৫০ সালের জমিদারি প্রথা বিলোপ আইন থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা—দীর্ঘ এই পরিক্রমায় ভূমি অধিকার আদায়ে সাধারণ মানুষকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। বর্তমান সময়ে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে উপজেলা পর্যায়ে ‘এসিল্যান্ড’ বা ‘সহকারী কমিশনার (ভূমি)’ পদটি নাগরিক সেবা ও শৃঙ্খলায় এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন শুরু হয় ১৯৫০ সালের ‘পূর্ববঙ্গ জমিদারি দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন’ পাসের মাধ্যমে। এর ফলে কয়েকশ বছরের পুরনো জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে এবং কৃষকরা সরাসরি রাষ্ট্রের প্রজা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভূমিহীনদের মাঝে খাসজমি বণ্টনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে আশির দশকে ভূমি সংস্কার এবং নব্বই পরবর্তী সময়ে ভূমি রেকর্ড আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হয়। ২০২৪-২৫ সালে এসে বাংলাদেশের ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা ‘স্মার্ট ভূমি সেবা’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি নাগরিকের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
জমি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা বা জিজ্ঞাসার জন্য সরাসরি উপজেলা ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা উচিত। এসিল্যান্ড বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এই সেবাগুলোর মূল তদারককারী। ভূমি অফিস থেকে বর্তমানে যে গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো প্রদান করা হয় তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
নামজারি ও রেকর্ড সংশোধন: জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর ‘নামজারি’ (মিউটেশন), জমাভাগ বা জমা একত্রিকরণ এবং এর ডুপ্লিকেট খতিয়ান বা সার্টিফাইড কপি প্রদান।
খাসজমি ও অর্পিত সম্পত্তি: ভূমিহীনদের মাঝে কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত, অর্পিত সম্পত্তির (ভিপি) লিজ নবায়ন ও নাম পরিবর্তন এবং অকৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত।
কর ও ভূমি উন্নয়ন: ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) নির্ধারণ, করের হার পুনর্নির্ধারণ এবং রিটার্ন সংক্রান্ত আপত্তি নিষ্পত্তি।
আইনি ও বিবিধ সেবা: দেওয়ানী আদালতের রায় মূলে রেকর্ড সংশোধন, আদিবাসীদের জমি হস্তান্তরের অনুমতি প্রদান এবং সিকস্তি (নদী ভাঙন) জনিত জমির কর মওকুফ।
বাণিজ্যিক ও অন্যান্য: হাটবাজারের চান্দিনা ভিটি লিজ ও নবায়ন, করাতকল স্থাপনের জন্য মালিকানা প্রত্যয়নপত্র এবং জমির অখণ্ডতা সনদের আবেদন নিষ্পত্তি।
২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভূমি মন্ত্রণালয় ‘ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড’ এবং ‘অনলাইন মিউটেশন’ ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি এক নাগরিক সংলাপে আলোচকরা জানিয়েছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও ভূমি জবরদখলকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে ২০২৫ সালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কঠোর আইন প্রয়োগ করছে। দুর্নীতি ও কালো টাকার মালিকদের প্রভাবমুক্ত হয়ে যেন একজন সাধারণ নাগরিক তার পৈতৃক বা ক্রয়কৃত জমির অধিকার ফিরে পায়, সেটিই এখন রাষ্ট্রের বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি সংক্রান্ত আইন না জানার কারণে অনেকেই প্রতারণার শিকার হন। তাই কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে না গিয়ে সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের শরণাপন্ন হওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
সূত্র: ১. ভূমি মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (মিনিস্ট্রি অফ ল্যান্ড)। ২. পূর্ববঙ্গ জমিদারি দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এবং সংশোধিত ভূমি আইন ২০২৪-২৫। ৩. বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভ ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক নাগরিক সংলাপ রিপোর্ট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |