| বঙ্গাব্দ

১৫ বছর পর সংসদে বিএনপি-জামায়াত: ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-02-2026 ইং
  • 2060462 বার পঠিত
১৫ বছর পর সংসদে বিএনপি-জামায়াত: ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ছবির ক্যাপশন: ১৫ বছর পর সংসদে বিএনপি-জামায়াত

দীর্ঘ ১৫ বছর পর সংসদে বিএনপি ও জামায়াত: নতুন বাংলাদেশের ভোরে এক ঐতিহাসিক শপথ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক নির্বাসন ও রাজপথের কঠিন লড়াই শেষে আজ এক নতুন সূর্যোদয় দেখল শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদ ভবনের ৬ নম্বর গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এর মাধ্যমে অবসান হলো টানা ১৫ বছরের এক রুদ্ধশ্বাস রাজনৈতিক অধ্যায়ের।

সকাল ৯টা থেকেই নবনির্বাচিত এমপিদের পদচারণায় মুখরিত হতে শুরু করে সংসদ এলাকা। কড়া নিরাপত্তা আর উৎসবের আমেজে শুরু হওয়া এই দিনটি বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

১৯০০ থেকে ২০২৬: ইতিহাসের বাঁক বদল

বাংলাদেশের রাজনীতির শেকড় অনেক গভীরে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের যে স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন শুরু হয়েছিল, তা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়।

  • স্বাধীনতা পরবর্তী সংকট: ১৯৭৫-এর পট পরিবর্তন এবং ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের যে ধারা শুরু হয়েছিল, তা বিগত ১৫ বছরে চরম সংকটের মুখে পড়েছিল।

  • নির্বাচন বর্জন ও সংগ্রাম: ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত দুটি নির্বাচন বিএনপি ও জামায়াতসহ অধিকাংশ বিরোধী দল বর্জন করেছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও ভোটের দিন দুপুরেই কারচুপির অভিযোগে তারা সরে দাঁড়িয়েছিল।

  • ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব: ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশ এক নতুন পরিবর্তনের পথে যাত্রা শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতায় ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে আজ সংসদে ফিরলেন তারা।

শপথের বিস্তারিত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আজকের শপথ অনুষ্ঠানে রেওয়াজ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে প্রথমে বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। এরপর একে একে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য দলের সদস্যরা শপথ নেন। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, যারা নির্বাচিত হয়ে প্রবেশ করছেন তাদের প্রত্যেকের পরিচয়পত্র ও গেজেট অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই করা হচ্ছে। সংসদ ভবনের চারপাশ জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সাধারণ মানুষের ভিড় এড়াতে ট্রাফিক ব্যবস্থায়ও আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন।

কী বললেন বক্তারা?

সংসদে প্রবেশের সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,

"এই সংসদ কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি ১৬ কোটি মানুষের পবিত্র আমানত। বিগত ১৫ বছর এ দেশের মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আমরা সংসদে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সেই কণ্ঠস্বর হতে চাই এবং একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কাজ করতে চাই।"

বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের যে সংগ্রাম তারা দীর্ঘকাল ধরে করেছেন, আজকের এই শপথ গ্রহণ সেই সংগ্রামেরই একটি বিজয়।

বিশ্লেষণ: এডসেন্স ও পাঠক চাহিদার আলোকে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও জামায়াতের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের দ্বিদলীয় ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে। গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিচার বিভাগ যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল, নতুন এই সংসদ তা কাটিয়ে উঠতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের সংস্কারমূলক কাজগুলোর পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

উপসংহার

১৯০০ সালের সেই উত্তাল বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র বিপ্লব—বাঙালি জাতি বারবার প্রমাণ করেছে তারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের নতুন অঙ্গীকার।


সূত্র: * দৈনিক যুগান্তর (আর্কাইভ ও বর্তমান কন্টেন্ট)

  • বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক

  • সংসদ সচিবালয় প্রেস উইং

  • জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও উইকিপিডিয়া (রাজনৈতিক ইতিহাস অংশ)

বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency