| বঙ্গাব্দ

নাটোরে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে পাঁচ নেত্রীর লড়াই: আলোচনায় কারা?

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-03-2026 ইং
  • 1874940 বার পঠিত
নাটোরে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে পাঁচ নেত্রীর লড়াই: আলোচনায় কারা?
ছবির ক্যাপশন: আলোচনায় কারা

সংসদীয় রাজনীতি ও নারী নেতৃত্ব—নাটোর বিএনপির পাঁচ নেত্রীর রাজনৈতিক প্রোফাইল বিশ্লেষণ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

নাটোর: বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ পরবর্তী) বাংলার রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তরকালে নারীর রাজনৈতিক সচেতনতা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের বর্তমান গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে—নারীর ক্ষমতায়ন এখন জাতীয় রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে নাটোরে বিএনপির পাঁচজন প্রভাবশালী নারী নেত্রী আলোচনায় রয়েছেন। এবারের সংসদে বিএনপি প্রাপ্ত ৩৫টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করতে তারা দলের শীর্ষ পর্যায়ে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাটোর জেলা বিএনপির রাজনীতিতে আলোচিত এই পাঁচ নেত্রীর রাজনৈতিক পথচলা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. সাবিনা ইয়াসমিন ছবি: নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও সাহসিকতা

নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সহধর্মিণী সাবিনা ইয়াসমিন ছবি।

  • অবদান: দুলু কারাবন্দি থাকাকালীন তিনি অত্যন্ত সফলভাবে জেলা বিএনপির হাল ধরেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন।

  • যোগ্যতা: উচ্চ শিক্ষিত ও রাজপথের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেত্রী নাটোর-নওগাঁ অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন।

২. সুফিয়া হক: রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা

জেলা মহিলা দলের সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য সুফিয়া হক। তিনি জেলা বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হকের সহধর্মিণী।

  • ইতিহাস: ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ছিলেন। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকা এই নেত্রী পুনরায় মূল্যায়নের প্রত্যাশা করছেন।

৩. অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার: ত্যাগ ও ছাত্র রাজনীতির শিকড়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্রনেত্রী এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কারিগর।

  • প্রেক্ষাপট: রাবি ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আইনুন নাহারকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন শহীদ জননী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালে মনোনয়ন পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি বাদ পড়েন।

  • সংগ্রাম: এরশাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে তাঁর বাড়িঘর ভাঙচুর ও পরিবারের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিনি এবার দলের পক্ষ থেকে যথাযথ মূল্যায়নের আশা করছেন।

৪. মহুয়া নূর কচি: শহীদী পরিবারের প্রতিনিধি

প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের পিটুনিতে নিহত বড়াইগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর বাবুর সহধর্মিণী।

  • আবেগ ও প্রতিশ্রুতি: বাবুর হত্যাকাণ্ডের পর বেগম খালেদা জিয়া স্বয়ং মহুয়ার বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এবং তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

৫. সানজিদা ইয়াসমিন তুলি: রাজপথের লড়াকু সৈনিক

ইডেন কলেজ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী সানজিদা ইয়াসমিন তুলি নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) এলাকার মেয়ে।

  • বিপ্লব ও আঘাত: ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার কারাবরণের দিন থেকে শুরু করে ২০২১ ও ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজপথে ছাত্রলীগের হামলায় একাধিকবার রক্তাক্ত হয়েছেন তিনি। এই 'ক্লিন ইমেজ' ও সাহসিকতার জন্য তরুণ কর্মীরা তাঁকে এমপি হিসেবে দেখতে চান।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার?

সংরক্ষিত আসনে মনোনীত করার বিষয়ে শেষ কথা বলবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নাটোরের এই পাঁচ নেত্রীর অতীত ত্যাগ, যোগ্যতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


তথ্যসূত্র: নাটোর জেলা বিএনপি মিডিয়া উইং (৩ মার্চ ২০২৬), নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি।

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency