ইসি সংলাপ থেকে বের করে দেওয়া হলো ইসলামী ঐক্যজোটের একটি প্রতিনিধিদলকে: ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যায়িত করে আপত্তি
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপের মধ্যে সম্প্রতি একটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। ইসলামী ঐক্যজোটের প্রতিনিধিদলকে তাদের প্রতিনিধি মুফতি আবুল হাসানাত আমিনীর নেতৃত্বে সংলাপ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। মূলত, দলের অপর অংশের আপত্তির কারণে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তাদের চলে যেতে বলেন।
রোববার (১৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়। শুরুতেই ইসলামী ঐক্যজোটের একটি অংশের প্রতিনিধি, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন মুফতি আবুল হাসানাত আমিনী, উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে তাদের উপস্থিতির বিরোধিতা করেন ইসলামী ঐক্যজোটের অপর অংশের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি।
মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি তার প্রতিনিধিদল নিয়ে ইতোমধ্যে সভাকক্ষে প্রবেশ করেন এবং তারা মুফতি আবুল হাসানাত আমিনীর নেতৃত্বাধীন অংশকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এরা বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিল এবং ২০২৪ সালেরসহ প্রতিটি একতরফা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগকে বৈধতা দিয়েছে।” তার মতে, এই অংশের প্রতিনিধিরা এখানে থাকলে তিনি এবং তার দল উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজির এই বক্তব্যে নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের প্রতি একটি স্পষ্ট অবস্থান নেয়া হয়েছিল। তার মতে, যেহেতু আমিনী নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল অতীতে ফ্যাসিবাদের সহায়ক ছিল, সেহেতু তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপে অংশ নেওয়া যাবে না।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ তখন উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণপত্র দেখার অনুরোধ করেন। সাখাওয়াত হোসেন রাজি তার দলের আমন্ত্রণপত্র দেখান, তবে মুফতি আবুল হাসানাত আমিনীর নেতৃত্বাধীন দল তাদের আমন্ত্রণপত্রের হার্ডকপি দেখাতে ব্যর্থ হন।
এ কারণে, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ মুফতি আবুল হাসানাত আমিনীর প্রতিনিধিদলকে সংলাপ কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে, মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি ও তার নেতৃত্বাধীন দল সংলাপে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হন।
এ ঘটনার পর, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়। নির্বাচনী সংলাপের মধ্যে এ ধরনের বিতর্কিত ঘটনা রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে এবং জনগণের কাছে এটি অস্পষ্টতা এবং বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।
নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু এবং ন্যায্য করার জন্য কাজ করছে। কিন্তু, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং বিভক্তি এই সংলাপের সুষ্ঠুতা এবং উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সকল দলের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, যদি প্রতিযোগী দলগুলোর মধ্যে এমন বিতর্ক সৃষ্টি হয়, তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া, এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের মধ্যে আস্থা এবং বিশ্বাসের প্রশ্নও উঠতে পারে, কেননা প্রতিটি দলের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য এবং সংলাপের প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনী সংলাপে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য দলীয় সংঘাতের বাইরে বেরিয়ে আসা এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আলোচনা করার পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |