আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ মে ২০২৫
গাজার চলমান সংকটকালে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন এক তহবিল ও বিতরণ কাঠামো গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, যার নাম গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (Gaza Humanitarian Foundation – GHF)।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য, সহায়তা বিতরণে ইসরায়েলকে নিরাপত্তা অংশীদার রেখে জাতিসংঘ ও বিদ্যমান আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রচলিত কাঠামোকে পাশ কাটানো।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ রোববার (১১ মে) এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি বরুস বৃহস্পতিবার এ পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
GHF একটি স্বতন্ত্র বিতরণ কাঠামো গড়ে তুলবে, যেখানে জাতিসংঘ বা তার অধীনস্থ সংস্থাগুলোর পরিবর্তে বেসরকারি ঠিকাদাররা সরাসরি গাজায় সহায়তা বিতরণ করবে। এ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েল সরাসরি যুক্ত থাকবে না, তবে তাদের নিরাপত্তা সহায়তা থাকবে বলেও জানা গেছে।
সহায়তা গ্রহণের জন্য ফিলিস্তিনিদের নির্দিষ্ট বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হতে হবে, যা মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিশ্বাস করছেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে ত্রাণ সরবরাহ ধীর, অকার্যকর এবং কখনো কখনো রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে, ইসরায়েল জাতিসংঘের কিছু শাখাকে হামাসের প্রতি সহনশীল বলে অভিযোগ করে আসছে।
GHF গঠনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায় এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকেও বিবেচনায় আনতে চাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। কারণ জাতিসংঘের বাইরে একটি ত্রাণ কাঠামো দাঁড় করানো হলে, এর নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েলের অনুমোদিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ও বিতরণ পয়েন্টে সহায়তা সীমিত রাখার মাধ্যমে গাজার বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ কার্যত বঞ্চিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, GHF-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ‘হিউম্যানিটারিয়ান কন্ট্রোল’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যাতে সহায়তা বিতরণ ও প্রভাব খাটানোর একচ্ছত্র অধিকার তাদের হাতে থাকে। এটি মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি নতুন কৌশলও হতে পারে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |