ওষুধশিল্পে ভয়াবহ সংকটের অভিযোগ: নীতিকে আত্মঘাতী বললেন মির্জা ফখরুল
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৯ আগস্ট ২০২৫
বাংলাদেশের ওষুধশিল্প চরম সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীতে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সম্মেলনে তিনি বলেন,
“অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এমন সব নীতি করছে, যাতে ওষুধশিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।”
তিনি অভিযোগ করেন, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে কঠিন সমস্যার মধ্যে রয়েছে।
“স্বাস্থ্যশিল্পের মাধ্যমে আমরা বহু দেশে ওষুধ রপ্তানি করি। কিন্তু এখনকার অবস্থা এমন যে, অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। মালিকরা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা এমন কিছু নিয়ম চাপিয়ে দিচ্ছেন যা শিল্পের জন্য আত্মঘাতী।”
মির্জা ফখরুল বলেন,
“অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক নীতি আত্মঘাতী। দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা—সবখানেই সংকট বাড়ছে। এসব সমাধান না করলে জাতীয় শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।”
বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“এগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। শুধু ভোটের অধিকার নয়, মানুষের সব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
এ সময় তিনি তারেক রহমানকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন,
“মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে আমরা প্রস্তুত।”
১৯৫০–১৯৭১: পাকিস্তান আমলে স্বাস্থ্য খাত ছিল অবহেলিত; দেশীয় ওষুধ উৎপাদন প্রায় ছিল না বললেই চলে।
১৯৭১–১৯৮২: স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে উঠতে শুরু করে; ১৯৮২ সালের ড্রাগ পলিসি দেশীয় ওষুধশিল্পকে শক্তিশালী করে।
১৯৯০–২০০৬: বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ওষুধশিল্প রপ্তানিমুখী হয়।
২০০৭–২০০৮: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হয়।
২০১০–২০২০: বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশ হয়ে ওঠে।
২০২৪–২০২৫: জুলাই আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন নীতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, যা বর্তমানে রাজনৈতিক সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
শিল্প সংকটের প্রভাব: ওষুধ উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়বহুল হবে এবং রপ্তানি বাজার হারানোর ঝুঁকি থাকবে।
নীতিগত বিতর্ক: ফখরুলের বক্তব্য অনুযায়ী নীতিগুলো শিল্পবিরোধী; সরকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো আসেনি।
রাজনৈতিক তাৎপর্য: স্বাস্থ্যখাতের সংকট তুলে ধরে বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।
ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা: ১৯৮২ সালের ড্রাগ পলিসির পর বাংলাদেশি ওষুধশিল্পের উত্থান ঘটে; বর্তমান বিতর্ক সেই নীতি ও অর্জনগুলোকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
যুগান্তর – ড্যাব সম্মেলনে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য
বাংলাদেশ ওষুধশিল্পের ইতিহাস (ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আর্কাইভ)
গুগল নিউজ আর্কাইভ – ২০২৪–২০২৫ অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি পরিবর্তন ও শিল্পপ্রভাব
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |