নিজস্ব প্রতিবেদক (বিডিএস ডিজিটাল) তারিখ: ১৬ মার্চ, ২০২৬
সালাহউদ্দিন আহমেদের আগের ও বর্তমান বক্তব্যের বৈপরীত্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অচলাবস্থা নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) রাজধানীর বিজয় সরণিতে এক ইফতার অনুষ্ঠানে এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
আখতার হোসেন এমপি অভিযোগ করেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ ঐক্যমত্য কমিশনে বলেছিলেন যে সংসদ সদস্যরা জুলাই সনদের শর্ত মানতে বাধ্য থাকবেন, কিন্তু এখন সংসদে এসে তিনি তা মানছেন না। সালাহউদ্দিন আহমেদের সেই পুরোনো ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আখতার হোসেন বলেন, "সাংবিধানিকতার দোহাই দিয়ে সংস্কার আটকে রাখা হচ্ছে। যদি সংবিধানে নেই বলে সংস্কার না হয়, তবে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি কেন সরকারি অফিসে নেই? জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে অনেক কিছু সম্ভব হলে সংস্কার পরিষদ কেন নয়?"
অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রধানতম দায় তার। তিনি দাবি করেন, সংবিধানে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও জনগণের গণআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই এই সংস্কার করতে হবে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, "একটি দল উটপাখির মতো বালুতে মাথা গুঁজে শুধু ‘নির্বাচন নির্বাচন’ তসবি জপছে। তারা বলেছিল নির্বাচনের পর সংস্কার হবে, এখন বলছে সংবিধানে লেখা নেই।" তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, যারা সংস্কার চায় না তাদের ‘ওয়াশআউট’ করে ২০২৯ সালে নতুন সংসদ গঠন করা হবে।
ছাত্রদল-যুবদলের হুমকির প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে কেউ অসুস্থ হওয়ার দাবি হাস্যকর। তিনি যতদিন রাজনীতিতে আছেন, চাঁদাবাজ ও লুটপাটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
| বিষয় | বিবরণ |
| প্রধান সমালোচিত ব্যক্তি | প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ। |
| মূল দাবি | জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে দ্রুত সংবিধান সংস্কার। |
| রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি | সংস্কার না করলে ২০২৯-এ ‘ওয়াশআউট’ হওয়ার হুমকি। |
| বিরোধের কেন্দ্র | জুলাই সনদের শর্ত বাস্তবায়ন বনাম সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। |
বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও রাজনৈতিক এনালাইসিস অনুযায়ী, ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনীতিতে এনসিপি এবং বিএনপির মধ্যে এই সংঘাত অত্যন্ত গভীর। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমলের আইনি কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসতে যে 'জুলাই সনদ' তৈরি করা হয়েছিল, তা এখন বড় রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আখতার হোসেন ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই বক্তব্য মূলত তরুণ প্রজন্মের সেই অংশকে প্রতিনিধিত্ব করছে যারা দ্রুত আমূল সংস্কার চায়। অন্যদিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ধীরে চলার নীতি নিয়েছে। মাঠ পর্যায়ের এনালাইসিসে দেখা গেছে, সালাহউদ্দিন আহমেদের ভাইরাল ভিডিওটি সরকারের ইমেজ সংকটে বড় ভূমিকা রাখছে। ২০২৯ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই তৃতীয় শক্তির উত্থানের যে বার্তা এনসিপি দিচ্ছে, তা আগামী দিনগুলোতে রাজপথ ও সংসদকে আরও উত্তপ্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিডিএস ডিজিটাল ডেস্ক-এর মন্তব্য: জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও এনসিপি’র এই স্নায়ুযুদ্ধ মূলত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সংবিধান ও ক্ষমতার ভারসাম্যের লড়াই।
সূত্র: ১. ন্যাশনাল প্রফেশনাল এলায়েন্স আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠান (১৬ মার্চ ২০২৬)।
২. এনসিপি কেন্দ্রীয় প্রচার উইং ও বিজয় সরণি প্রতিনিধি প্রতিবেদন।
৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর রাজনৈতিক এনালাইসিস ইউনিট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |