| বঙ্গাব্দ

শেরপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, উত্তেজনা বিরাজ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-02-2025 ইং
  • 3834472 বার পঠিত
শেরপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, উত্তেজনা বিরাজ
ছবির ক্যাপশন: উত্তেজনা বিরাজ

শেরপুরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা

শেরপুরে আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপি নেতাসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় গুরুতর আহত বিএনপি নেতা জাকারিয়া বাদল (৪৭) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। নিহত বাদল সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও শেরপুর সরকারি কলেজের সাবেক এজিএস ছিলেন।

এর আগে, বিকেলে সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের ভীমগঞ্জ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতদের মধ্যে সোহাগ আলম (৩৫) ও রুহুল নামে আরও দুইজন রয়েছেন, যাদের মধ্যে সোহাগের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

হামলার কারণ ও পটভূমি

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, কামারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফর রহমানের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাদলের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। সম্প্রতি জেলা বিএনপির গ্রুপিং ও নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের কারণে তাদের সম্পর্ক আরও জটিল হয়।

অন্যদিকে, ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কৃষক লীগ নেতা নুরে আলমের সঙ্গেও লুৎফরের রাজনৈতিক বৈরিতা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। অভিযোগ আছে, বিএনপি নেতা বাদলকে দমাতে লুৎফর সম্প্রতি কারাগারে থাকা নুরে আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তারা মিলে বাদলকে শায়েস্তা করতে পরিকল্পনা করেন বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।

হামলার বিবরণ

মঙ্গলবার বিকেলে জাকারিয়া বাদল, সোহাগ আলম ও রুহুল মোটরসাইকেলে করে ভীমগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা নুরে আলম ও লুৎফরের অনুসারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বাদলসহ তিনজনকে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বাদল ও সোহাগকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রাত ১টার দিকে বাদল মারা যান।

অবস্থা উত্তপ্ত, মোতায়েন যৌথবাহিনী

এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর রয়েছে।

শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও যৌথবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।"

এই ঘটনায় নিহত বাদলের পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency