আন্তর্জাতিক ও এশিয়া সংক্রান্ত ডেস্ক
২৬ জুলাই, ২০২৬
দৈনিক মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুম আর ছুটির দিনে নিজের পোশাক সেলাই থেকে শুরু করে হাজার হাজার ই-মেইলের জবাব দেওয়া—জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি (Sanae Takaichi)-র এমন অবিশ্বাস্য কর্মব্যস্ততা এখন দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জাপানের দীর্ঘদিনের কর্মসংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য (Work-Life Balance) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
একজন সাধারণ ও সাধারণমুখী নেতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চাওয়া এই রাষ্ট্রপ্রধানের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টটি ইতোমধ্যেই ৩ কোটি ১০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে, যা তাঁর শারীরিক স্বাস্থ্য, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ঘুমের মারাত্মক ঘাটতি: সানায়ে তাকাইচি নিজের রুটিনে দৈনিক ০-৩ ঘণ্টা ঘুমান। অতি সম্প্রতি সরকারি ছুটিতে দীর্ঘদিন পর তিনি টানা ৫ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পেয়েছেন।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সমালোচনা: বিরোধীদের দাবি, তীব্র ঘুমহীনতায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা একজন মদ্যপ মানুষের সমপর্যায়ে চলে যায়, যা জাতীয় সংকটে বিপদ ডেকে আনতে পারে।
নারী প্রধানমন্ত্রীর ওপর সামাজিক চাপ: বিশ্লেষকদের মতে, পুরুষ প্রধানমন্ত্রীরা গৃহস্থালি কাজের জন্য স্ত্রীদের সহযোগিতা পেলেও তাকাইচিকে নিজের জামাকাপড় সেলাই বা ইস্ত্রি করার কাজও একা সামলাতে হচ্ছে।
কারোশি’ সংস্কৃতির ছায়া: অতিরিক্ত খাটুনির জন্য কুখ্যাত জাপানে শীর্ষ পদের এ ধরনের জীবনযাত্রা সাধারণ চাকরিজীবীদের ওপর মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে।
গত ২০ জুলাই জাপানের সরকারি ছুটির দিন ‘সমুদ্র দিবস’-এ সাধারণ মানুষ যখন তীব্র গরম থেকে বাঁচতে সমুদ্রসৈকতে ছুটি কাটাচ্ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তখন জমে থাকা হাজার হাজার সরকারি ফাইল পড়া ও জবাব দেওয়াতেই ব্যস্ত ছিলেন।
এর পরদিন মঙ্গলবার দেওয়া এক সামাজিক মাধ্যম পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, সেই দিন তিনি টানা ৫ ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছেন এবং অবসরে নিজের ছিঁড়ে যাওয়া স্কার্ট সেলাই, ঢিলা বোতাম শক্ত করা ও অন্তর্বাস ইস্ত্রি করার কাজও নিজে সেরেছেন। এর পরই তোলপাড় শুরু হয় টোকিওর রাজনৈতিক মহলে।
💬 জাপানের রাজনৈতিক মহলের তীব্র প্রতিক্রিয়া:
• তোরু কুনিশিগে (বিরোধী এমপি) : "পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মদ্যপ অবস্থার মতো দুর্বল হয়ে পড়ে। এটা রাষ্ট্রের জন্য চরম বিপজ্জনক।"
• হিরোইউকি কোনিশি (সমালোচক) : "প্রধানমন্ত্রীর কাজ নীতির নির্দেশ দেওয়া, প্রতিটি নথির অক্ষর বাই অক্ষর পড়া নয়। তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।"
• ইউইচিরো তামাকি (রক্ষণশীল নেতা): "তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী, তবে তাঁকে বুঝতে হবে—বিশ্রাম নেওয়াও একটি কাজেরই অংশ।"
টোকিওর ‘ন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের’ অধ্যাপক ইয়োকো ইওয়ামা জানান, আগের পুরুষ প্রধানমন্ত্রীরা ঘরের দৈনন্দিন কাজের ব্যাপারে স্ত্রীদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতেন। কিন্তু তাকাইচিকে রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ঘরের কাজও নিজেকেই সামলাতে হচ্ছে, যা সমাজে বিদ্যমান অসম লিঙ্গভিত্তিক দায়িত্বের এক বড় উদাহরণ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আয়ানো কুনিমিৎসু প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সমর্থনে বলেন, ঘরের কাজ ও অফিসের দায়িত্ব একা সামলানোর এই অদৃশ্য সংগ্রাম অনেক রাজনীতিকের ক্ষেত্রেই ঘটে।
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ জাপানের কর্মসংস্কৃতি ও ‘কারোশি’ │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ • কারোশি (অতিরিক্ত কাজে মৃত্যু): অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার কারণে মৃত্যু রোধে │
│ জাপান সরকার ওভারটাইমের সীমা বেঁধে দিলেও খোদ প্রধানমন্ত্রী সেই রুটিন ভাঙছেন।│
│ • নেতৃত্ব ও আধুনিক মানসিকতা: 'কাজ, কাজ আর কাজ'—এই পুরোনো মডেল আধুনিক │
│ জাপানের তরুণেদের কাছে অনুপ্রেরণার বদলে উদ্বেগ তৈরি করছে। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
রাষ্ট্রপ্রধানদের মানসিক সুস্থতা ও পর্যাপ্ত ঘুম কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের বিষয় নয়, এটি ভূ-রাজনৈতিক সংকটে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় মিত্ররাও অনেক সময় তাদের রাষ্ট্রপ্রধানদের মানসিক ক্লান্তি এড়াতে পর্যাপ্ত ছুটির সুপারিশ করে থাকে।
তাকাইচি নিজে অবশ্য এসবে দমার পাত্রী নন। সমালোচনার তোড়েও নিজের পোস্টে ক্লান্তিহীনতার বার্তা দিয়ে লিখেছেন, "আগামীকাল থেকে আমি আবার পুরো শক্তি নিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারব!
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |