| বঙ্গাব্দ

চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবি আদায়ে সমাবেশ, ঢাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দিকে পদযাত্রা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-03-2025 ইং
  • 4585208 বার পঠিত
চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবি আদায়ে সমাবেশ, ঢাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দিকে পদযাত্রা
ছবির ক্যাপশন: ঢাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দিকে পদযাত্রা

চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা শহীদ মিনারে দিনব্যাপী সমাবেশ

আজ, ১২ মার্চ, রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চিকিৎসকরা তাদের পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দিনব্যাপী একটি সমাবেশ করেছেন। ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চিকিৎসকরা এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছেন। 'ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটি পাইওনিয়ার অব ফাইভ পয়েন্টস মুভমেন্ট' ব্যানারে আয়োজিত এ সমাবেশটি বেলা সাড়ে ১১টার পর শুরু হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ সারাদেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তারা আরও জানান, সরকারি এবং বেসরকারি সব হাসপাতালে ইনডোর ও আউটডোর সেবা বন্ধ থাকবে। একইভাবে, বৈকালিক চেম্বারও বন্ধ থাকবে। তবে, কেবল মানবিক বিবেচনায় জরুরি সেবা চলমান থাকবে। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দিকে পদযাত্রার পরিকল্পনা করেছেন।

চিকিৎসকদের দাবি ও আন্দোলনের পটভূমি:

চিকিৎসকরা পাঁচ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তাদের দাবি একে একে তুলে ধরা হলো:

১. চিকিৎসক পদবি ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা

চিকিৎসকরা দাবি করছেন যে, এমবিবিএস বা বিডিএস ব্যতীত কেউ "ডাক্তার" পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) থেকে নিবন্ধন প্রদান করছে। তারা দাবি করছেন, এই নিবন্ধন প্রদান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, এবং বিএমডিসি নিবন্ধন শুধুমাত্র এমবিবিএস এবং বিডিএস ডিগ্রিধারীদের দেওয়া উচিত।

২. ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) ড্রাগ লিস্ট আপডেট

চিকিৎসকরা বলছেন, উন্নত দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) ড্রাগ লিস্ট আপডেট করতে হবে। তাদের মতে, এমবিবিএস বা বিডিএস ছাড়া অন্য কেউ ওটিসি লিস্টের বাইরের কোনো ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারবেন না। একই সঙ্গে, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিগুলো ওটিসি লিস্টের বাইরের কোনো ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না।

৩. চিকিৎসক সংকট নিরসন

চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের সংকট নিরসনে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করছেন যে, দ্রুত ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া উচিত এবং সব শূন্যপদ পূর্ণ করতে হবে। পাশাপাশি, আলাদা একটি স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করে আগের মতো সপ্তম গ্রেডে নিয়োগ দিতে হবে। তারা আরও দাবি করছেন যে, প্রতিবছর ৪ থেকে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এছাড়া, চিকিৎসকদের বিসিএসে বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে হবে।

৪. মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুল ও মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধ

চিকিৎসকদের দাবি, সব মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুল (ম্যাটস) এবং মানহীন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধ করা উচিত। তারা আরও বলেছেন, ইতিমধ্যে পাস করা ম্যাটস শিক্ষার্থীদের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) পদবি রহিত করে, তাদের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন

চিকিৎসকরা তাদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে এক অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার পর, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ৭ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ ৭ মাস পরেও এই আইন বাস্তবায়ন হয়নি। চিকিৎসকরা দাবি করছেন, তারা আর অপেক্ষা করতে চান না, এই আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

হাইকোর্টের নির্দেশনা:

এদিকে, আজ হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন। আদালত জানিয়েছে, এমবিবিএস এবং বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া কেউ "ডাক্তার" পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। এই আদেশের ফলে, চিকিৎসকদের দাবি একধাপ এগিয়ে গেছে এবং তাদের আন্দোলনের একটি দফা পূর্ণ হয়েছে। আদালত বলেছে, যারা এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া "ডাক্তার" পদবি ব্যবহার করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আন্দোলনের মধ্যে একতাবদ্ধতা:

এ দিনের সমাবেশে চিকিৎসকরা জানান, তাদের ৫ দফার এক দফা পূর্ণ হয়েছে, তবে পুরো পাঁচ দফা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাদের একটাই লক্ষ্য, দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি এবং চিকিৎসকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তারা মনে করেন, তাদের দাবিগুলির বাস্তবায়ন ছাড়া দেশের স্বাস্থ্য খাত সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যেতে পারে না।

এ আন্দোলনের পর, চিকিৎসকরা আশা করছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের দাবি মেনে নেবে, যাতে দেশের স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তন আনা সম্ভব হয় এবং চিকিৎসকরা তাদের কাজ নিরাপদভাবে, সঠিকভাবে করতে পারেন।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency