সেনাবাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার (৩ মে) রাত ১০টা থেকে রোববার ভোর ৪টা পর্যন্ত বগুড়া শহরের বড়গোলা টিনপট্টি এবং শাকপালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় চক্রের সদস্য তাহের আলী রঞ্জু ও বাইজিদ আলীকে।
অভিযানের সময় প্রতারণার শিকার সেনাসদস্য হতে ইচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী সাকিব আলীকেও উদ্ধার করা হয়। তার কাছ থেকে জব্দ করা হয় চাকরির আশায় জমা দেওয়া শিক্ষা সনদের মূল কপি, ফাঁকা চেক এবং ফাঁকা স্ট্যাম্প। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
বগুড়া সেনানিবাসে রোববার সৈনিক পদের প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এই পরীক্ষা ঘিরে কিছুদিন ধরেই একটি চক্র চাকরি পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হাতিয়ে নিচ্ছে এমন অভিযোগ আসে স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে। অভিযোগের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি দল অভিযানে নামে।
প্রথমে বড়গোলা টিনপট্টি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় বাইজিদ আলী ও পরীক্ষার্থী সাকিব আলীকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পরে শাকপালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় চক্রের মূল হোতা তাহের আলী রঞ্জুকে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে আরও ফাঁকা স্ট্যাম্প, সনদের মূল কপি ও চেক উদ্ধার করা হয়, যা চাকরি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, এই চক্রটি সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি বাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বহু চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ ও কাগজপত্র আদায় করেছে। চাকরি দেওয়ার ভুয়া আশ্বাস দিয়ে তারা পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সনদের মূল কপি জমা নেয়, ফাঁকা চেকে সই করিয়ে রাখে এবং পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে।
চক্রটি মূলত যেসব প্রার্থী নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়ে যায়, তাদের বুঝিয়ে বলে—এই চাকরিটি তারা পাইয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে তারা। আবার যারা চাকরি পায়নি, তাদের কাগজপত্র আটকে রেখে হয়রানি করত।
অভিযান শেষে আটককৃত দুই প্রতারককে সেনাবাহিনী বগুড়া সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্তের মাধ্যমে এদের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে সকলকে সতর্ক করে বলেছে, সরকারি চাকরি বিশেষ করে সেনাবাহিনীর মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে কোনোভাবেই ঘুষ বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। যারা এ ধরনের প্রতারণায় জড়িয়ে পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |