| বঙ্গাব্দ

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ২০২৬: জ্যারেড কুশনার ও আব্বাস আরাঘচি মুখোমুখি।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-04-2026 ইং
  • 1116227 বার পঠিত
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ২০২৬: জ্যারেড কুশনার ও আব্বাস আরাঘচি মুখোমুখি।
ছবির ক্যাপশন: ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ২০২৬

ইসলামাবাদে বিশ্বশান্তির মাহেন্দ্রক্ষণ: মুখোমুখি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও জিওপলিটিক্যাল এনালিস্ট)

ইসলামাবাদ/ওয়াশিংটন, ১০ এপ্রিল ২০২৬: বিশ্ব রাজনীতির সকল সমীকরণ এখন এসে মিলেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। আগামী শনিবার (১১ এপ্রিল) সেখানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা’। দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা কাটাতে দুই দেশেরই সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তান ইতিমধ্যে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদলের তালিকা প্রকাশ করেছে।

১. আলোচনার টেবিলে বিশ্বশক্তির সারথি

এই ঐতিহাসিক বৈঠকের গুরুত্ব বোঝা যায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের তালিকা দেখলেই। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তি থেকে শুরু করে ইরানের তুখোড় নীতিনির্ধারকরা এখন একই ছাদের নিচে বসছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল:

ওয়াশিংটনের হয়ে আলোচনার নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে থাকছেন:

  • জ্যারেড কুশনার: ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতির অভিজ্ঞ কারিগর।

  • স্টিভ উইটকফ: হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত।

  • অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার: সেন্টকম (CENTCOM) কমান্ডার।

ইরানের প্রতিনিধিদল:

তেহরানের পক্ষ থেকে থাকছেন প্রভাবশালী নীতিনির্ধারকরা:

  • মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার।

  • আব্বাস আরাঘচি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • মজিদ তাখত রাভানচি: উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

২. পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা

আলোচনার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে পাকিস্তান তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘কোর টিম’ নামিয়েছে। এতে থাকছেন প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং আইএসআই (ISI) প্রধান। সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের এই সম্মিলিত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, পাকিস্তান এই আলোচনার সফলতার বিষয়ে কতটা সিরিয়াস।

৩. আলোচনার মূল লক্ষ্য: স্থায়ী শান্তি ও হরমুজ প্রণালি

এই বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা মূলত দুটি:

  • স্থায়ী যুদ্ধবিরতি: বর্তমানে চলমান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে রূপান্তর করা।

  • হরমুজ প্রণালি: বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের এই প্রধান রুটটিকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ ঘোষণা করা এবং টোল আদায়ের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে জ্যারেড কুশনারের উপস্থিতি এবং জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্ব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে—যুক্তরাষ্ট্র এবার মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই ‘ডিল’ করতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ইরানের উচ্চ পর্যায়ের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে তারা অবরোধ ও যুদ্ধের ধকল কাটিয়ে উঠতে চায়। ‘এক পা এক পা’ করে বিশ্ব রাজনীতি যখন ধ্বংসের কিনারা থেকে ফিরছে, তখন ইসলামাবাদের এই বৈঠক হতে পারে শতাব্দীর অন্যতম সফল কূটনৈতিক মহোৎসব।


ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা: অংশগ্রহণকারী এক নজরে (১১ এপ্রিল ২০২৬)

দেশপ্রধান প্রতিনিধিগুরুত্বপূর্ণ সদস্য
পাকিস্তান (সমন্বয়ক)প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসেনাপ্রধান আসিম মুনির, আইএসআই প্রধান।
যুক্তরাষ্ট্রজে ডি ভ্যান্স (ভাইস প্রেসিডেন্ট)জ্যারেড কুশনার, অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
ইরানমোহাম্মদ বাঘের গালিবাফআব্বাস আরাঘচি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency