প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিগতভাবে করা চারটি আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি হবে।
গতকাল মঙ্গলবার এ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। পরে আদালত আজকের দিন ধার্য করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
১৯৯৬ সালের মার্চে সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস হয়, যাতে জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধান রাখা হয়। এটি মূলত ১৯৯৪–৯৫ সালে বিরোধী দলের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গৃহীত হয়।
১৯৯৬ সালের জুন মাসে এই ব্যবস্থার অধীন প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে।
পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসে একই ব্যবস্থার অধীনে হওয়া নির্বাচনে।
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছরের জন্য ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক সংস্কার ও দুর্নীতি দমন অভিযান চালায়। এই সময়কে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়।
২০০৫ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে আপিল করা হয়।
২০১১ সালের ১০ মে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। তবে একই সঙ্গে আদালত বলেছিলেন, দশম ও একাদশ জাতীয় নির্বাচন এ ব্যবস্থার অধীনে করা যেতে পারে।
আদালত মামলাটিতে আটজন অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) নিয়োগ করেছিলেন।
ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, টিএইচ খান, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম—এরা সবাই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন।
ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কেসি একে বাতিল করার পক্ষে মত দেন।
ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক ও ড. এম জহির আমূল সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেন।
তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
২৫ আগস্ট ২০২৪: সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন ব্যক্তিগতভাবে রিভিউ আবেদন করেন।
তাঁদের মধ্যে আছেন তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজ উদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।
১৬ অক্টোবর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে আইনজীবী জয়নুল আবেদীন রিভিউ আবেদন করেন।
২৩ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামি তাদের পক্ষ থেকে রিভিউ আবেদন করে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আবেদনটি দায়ের করেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচনকালীন সরকারের ধরণ ও প্রভাব সবসময়ই রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।
আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবস্থার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, বিশেষত ২০১১ সালের রায়ের পর থেকে।
বিএনপি ও বিরোধী দলগুলো এখনও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে আসছে, যাতে নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয়।
বর্তমান রিভিউ শুনানি তাই শুধু আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রশ্নে দেশ দু’ভাগে বিভক্ত।
সমর্থকরা মনে করেন, এটি ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
বিরোধীরা মনে করেন, এটি অনির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ করে দেয়।
বাংলাদেশের ইতিহাস (১৯৫০ থেকে ২০২৫) ঘেঁটে দেখা যায়, রাজনৈতিক সংঘাতের বড় অংশই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের প্রশ্নকে ঘিরে। তাই এই রিভিউ শুনানি শুধু আদালতের সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায় সংক্রান্ত প্রতিবেদন (২০১১) – আপিল বিভাগ আর্কাইভ
সংসদীয় কার্যক্রম ও ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন, ১৯৯৬
জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও বার্তা সংস্থা: যুগান্তর, প্রথম আলো, বিবিসি বাংলা (সংকলিত)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |