নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১১ মে ২০২৫
যুদ্ধাপরাধের সহযোগীদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি ও তথাকথিত মুজিববাদী বাম রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। শনিবার (১০ মে) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে “দুটি কথা” শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এই বক্তব্যে তিনি সরাসরি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরবর্তী ইতিহাস নিয়ে যে বিতর্ক বিদ্যমান, তার একটি চূড়ান্ত মীমাংসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পাশাপাশি, ‘জুলাই আন্দোলনের’ পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সাবধান করে দেন।
পোস্টের প্রথম অংশে মাহফুজ আলম লেখেন,
“৭১-এর প্রশ্ন মীমাংসা করতেই হবে। যুদ্ধাপরাধের সহযোগীদের ক্ষমা চাইতে হবে। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে পাকিস্তানপন্থা বাদ দিতে হবে।”
তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র যদিও গণহত্যার দায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছে, এমনকি পুনরায় ক্ষমা চাইতেও রাজি, কিন্তু যারা বাংলাদেশের ভেতরে সেই যুদ্ধাপরাধের সহযোগিতা করেছে, তারা এখনো ক্ষমা চায়নি। “ইনিয়ে-বিনিয়ে গণহত্যার পক্ষে বয়ান উৎপাদন” বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টের দ্বিতীয় অংশে মাহফুজ আলম বলেন,
“মুজিববাদী বামদের ক্ষমা নাই। লীগের গুম-খুন, শাপলায় হত্যাকাণ্ড, মোদীবিরোধী আন্দোলনের নৃশংসতার মস্তিষ্ক এরা। জুলাইয়ের সময় এরা নিকৃষ্ট দালালি করেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মুজিববাদী বামরা সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এখনো ‘জুলাই আন্দোলন’ বা গণআন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে যাচ্ছে। এদের রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান জনগণের বিরুদ্ধে। এরা লীগের বি-টিম হিসেবে কাজ করছে।”
এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের মধ্য দিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলছে। 'জুলাই আন্দোলন' নামে পরিচিত গণবিক্ষোভের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর যারা নতুন রাজনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন, তারা ১৯৭১, দুর্নীতি, গণতন্ত্রবিরোধী রাজনীতি এবং যুদ্ধাপরাধ—এসব বিষয়কে মুখ্য নৈতিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন।
অপরদিকে, আওয়ামী লীগ ও তার বামপন্থী সহযোগীরা এই সব অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করে আসছে। মাহফুজ আলমের বক্তব্যে এই বিভাজন আরও প্রকট হয়েছে।
মাহফুজ আলমের পোস্টের ভাষা ও বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পষ্ট, আবেগঘন এবং হুঁশিয়ারিপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন,
“যারা দেশে বসে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে, তারা শিগগিরই পরাজিত হবে। অন্য কারও কাঁধে ভর করে লাভ নেই।”
এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ে এখনো রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণ ও ইতিহাস পুনর্মূল্যায়নের একটি কঠোর মনোভাব বিরাজ করছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |