খুলনা ও যশোরে আজ তারেক রহমানের নির্বাচনী মহাগর্জন: দক্ষিণাঞ্চলের ভাগ্য বদলের রূপরেখা দেবেন বিএনপি প্রধান
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
খুলনা ও যশোর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে রাজনীতির উত্তাপ এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। উত্তরাঞ্চলে তিন দিনের সফল সফর শেষে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) খুলনা ও যশোরে দুটি বিশাল নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। এই সফরের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান কেবল ভোটই চাইবেন না, বরং শিল্পনগরী খুলনা ও সীমান্তবর্তী যশোরের ভাগ্য বদলের একগুচ্ছ পরিকল্পনা বা ‘উন্নয়ন সনদ’ ঘোষণা করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে খুলনা ও যশোরের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও গৌরবোজ্জ্বল। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনে এই অঞ্চলের মানুষের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যশোর ছিল বাংলাদেশের প্রথম জেলা, যা পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয়েছিল। পরবর্তীকালে ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, এ দেশের মানুষ কোনো ধরণের স্বৈরশাসন মেনে নেয় না। ১৯০০ সালের সেই অধিকার আদায়ের চেতনা থেকে ২০২৬-এর এই সংস্কারমুখী রাজনীতি পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটাই—নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধিকে ভোট দেওয়া এবং টেকসই উন্নয়ন। তারেক রহমানের আজকের সফরকে বিশ্লেষকরা ২০২৪-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
আজ সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে খুলনায় পৌঁছাবেন তারেক রহমান। দুপুর ১২টায় খালিশপুর প্রভাতি হাই স্কুল মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। খুলনার অবহেলিত শিল্পাঞ্চল এবং বন্ধ মিল-কারখানার শ্রমিকদের কথা শুনতে চান বলেই তিনি সমাবেশের জন্য এই স্থানটি নির্বাচন করেছেন।
বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল জানান:
"তারেক রহমান কেবল ভাষণ দিতে আসছেন না, তিনি খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরবেন। বন্ধ মিল-কারখানা চালু, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং গ্যাস সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি বড় ঘোষণা দেবেন।"
খুলনার এই সমাবেশ থেকে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার মোট ১৪টি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের জনগণের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন তিনি।
খুলনার কর্মসূচি শেষে দুপুর দেড়টায় তারেক রহমান হেলিকপ্টারে যশোরে পৌঁছাবেন। শহরের যানজট এড়িয়ে উপশহর কলেজ মাঠে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। যশোরের সমাবেশকে ঘিরে পুরো বিভাগে এক অভাবনীয় গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন:
"মাত্র দুই দিনের নোটিশে এই আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। এটি হবে যশোরের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জনসমাবেশ। সমাবেশ থেকে যশোরসহ সাতটি জেলার বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।"
জনসভা উপলক্ষে খুলনায় ছয়টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে এবং যশোর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এবারই প্রথম জনসভার নিরাপত্তায় ‘বডি অন ক্যামেরা’ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সমাবেশ সম্পন্ন করতে বিএনপি নেতাকর্মীরাও পুলিশকে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
১৯০০ সালের সেই উত্তাল রাজনীতি থেকে আজকের ২০২৬-এর নির্বাচনী ডামাডোল—বাঙালি বারবার প্রমান করেছে তারা অধিকার আদায়ে সচেষ্ট। তারেক রহমানের এই দুই জেলা সফর মূলত ২০২৬-এর ব্যালট বিপ্লবের ডাক। যশোরের সমাবেশ শেষে বিকেলেই তিনি হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফিরে যাবেন। ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের মূল স্পিরিট ধারণ করে বিএনপি প্রধানের এই উন্নয়ন বার্তা তৃণমূলের সাধারণ ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), যুগান্তর আর্কাইভ (২০২৬), বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক, স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিবেদন (খুলনা ও যশোর) এবং উইকিপিডিয়া (বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ১৯০০-২০২৬)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |