| বঙ্গাব্দ

মীর শাহে আলমের অভিযোগকে আসিফ মাহমুদের চ্যালেঞ্জ: ‘সৎ সাহস থাকলে ফাইল স্পষ্ট করুন’

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 24-05-2026 ইং
  • 70037 বার পঠিত
মীর শাহে আলমের অভিযোগকে আসিফ মাহমুদের চ্যালেঞ্জ: ‘সৎ সাহস থাকলে ফাইল স্পষ্ট করুন’
ছবির ক্যাপশন: আসিফ মাহমুদের চ্যালেঞ্জ:

ফাইল অনুমোদন বিতর্ক: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ, ‘সৎ সাহস থাকলে ফাইল জনসমক্ষে আনুন’

রবিবার, ২৪ মে ২০২৬: সচিবের সই বা স্বাক্ষর ছাড়াই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জোরপূর্বক ফাইল অনুমোদনের এক গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রশাসনের শীর্ষ মহলে তীব্র উত্তেজনা ও বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বর্তমান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দেওয়া বিস্ফোরক বক্তব্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিনি স্পষ্ট দাবি করেছেন, প্রতিমন্ত্রীর যদি ন্যূনতম ‘সৎ সাহস’ থাকে, তবে লুকোচুরি না করে আগামীকালের (সোমবার) মধ্যেই বিতর্কিত সেই ফাইলটি দেশের জনগণের সামনে এনে সত্য স্পষ্ট করুন। গতকাল শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে দেওয়া এক জরুরি ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

১. ‘কোন ফাইল? গোপনে কিছু করা হয়নি’: আসিফ মাহমুদের আত্মপক্ষ সমর্থন

ভিডিও বার্তায় সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রশাসনিক আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন:

"শাহে আলম সাহেব গণমাধ্যমে বলেছেন, সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই উপদেষ্টা একটি ফাইল অনুমোদন করেছেন। কিন্তু আমার দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন হলো— সুনির্দিষ্টভাবে কোন ফাইলের কথা বলা হচ্ছে? ফাইল প্রক্রিয়াকরণে সাধারণত সচিবের স্বাক্ষর বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন থাকাই নিয়ম।"

প্রশাসনিক বিধিমালা বা রুলস অব বিজনেসের ব্যাখ্যা দিয়ে আসিফ মাহমুদ আরও যোগ করেন যে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কোনো কারণে সচিব অনুপস্থিত থাকলে বা পদটি শূন্য থাকলে অতিরিক্ত সচিব বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রুটিন ফাইল সই করেন এবং নির্ধারিত চেইন অব কমান্ড মেনেই ফাইল অনুমোদন এগিয়ে যায়। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিধিমোতাবেক মন্ত্রী বা উপদেষ্টার চূড়ান্ত নীতিগত অনুমোদনের আইনগত ক্ষমতা রয়েছে এবং এটি কোনোভাবেই বিধিবহির্ভূত বা অবৈধ নয়।

২. বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ ও সুনির্দিষ্ট ফাইল প্রকাশের আহ্বান

সাবেক এই উপদেষ্টার অভিযোগ, পুরো বিষয়টি আংশিকভাবে বা খণ্ডিত উপায়ে জনগণের সামনে উপস্থাপন করে একটি সুনির্দিষ্ট বিভ্রান্তি তৈরি করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এভাবে ঢালাওভাবে অভিযোগ করলে সাধারণ মনে হতে পারে যে, কোনো আইনি প্রক্রিয়া না মেনে সম্পূর্ণ গোপনে বা স্বৈরাচারী কায়দায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবতার ধারেকাছেও নেই।

আসিফ মাহমুদ দৃঢ়তার সাথে মীর শাহে আলমকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, "যদি কোনো নির্দিষ্ট অবকাঠামো বা প্রকল্প সংক্রান্ত ফাইল নিয়ে প্রশ্ন বা অসঙ্গতি থাকে, তবে তা আমলাতান্ত্রিক ফাইলে বন্দি না রেখে অবিলম্বে প্রকাশ্যে আনা উচিত। আমি যেকোনো সুনির্দিষ্ট ফাইল নিয়ে জনসমক্ষে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা দিতে শতভাগ প্রস্তুত আছি।"

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ফাইল অনুমোদন বিতর্ক ও উভয় পক্ষের অবস্থান (মে ২০২৬)

২৩ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই মন্ত্রণালয়ের ফাইল জোরপূর্বক অনুমোদনের অভিযোগ আনায় তীব্র প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা খতিয়ে দেখতে সরকার ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালককে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। [1, 2, 3, 4]
এই ফাইল অনুমোদন বিতর্ক এবং এর প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের অবস্থান নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ফাইল অনুমোদন বিতর্ক ও উভয় পক্ষের অবস্থান 
প্রধান আলোচ্য বিষয়প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অবস্থান ও অভিযোগসাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অবস্থান ও পাল্টা চ্যালেঞ্জ
মূল অভিযোগ ও রুলস অব বিজনেসঅন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ দায়িত্বে থাকাকালে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই জোর করে ফাইল নিয়ে যান এবং নিজের একক স্বাক্ষরে প্রকল্পের অনুমোদন দেন, যা রুলস অব বিজনেসের পরিপন্থীপ্রতিমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট ফাইলটি জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।
প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও বিকল্প বিধিসচিবের সই ছাড়া মন্ত্রী বা উপদেষ্টা কোনো ফাইল অনুমোদন দিতে পারেন না, ফলে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে।সচিব বিদেশে বা অন্য কোনো কারণে অনুপস্থিত থাকলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রীর অনুমোদনক্রমেই তা সম্পাদিত হয় এবং এতে কোনো আইনি ব্যত্যয় ঘটেনি।
দুর্নীতি ও অনিয়মের পরিধিএই ফাইল অনুমোদন প্রক্রিয়ার আড়ালে বিগত ১৭ বছরে (জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পিরোজপুরের একটি প্রকল্পে কোনো কাজ ছাড়াই ৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার দুর্নীতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। তদন্ত কমিটি যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, তবে কোনো নিয়মবহির্ভূত কাজের প্রমাণ মিলবে না।
তদন্ত কমিটির ভূমিকাসরকারের গঠিত ৭ সদস্যের কমিটি ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত হওয়া সব অনিয়ম খতিয়ে দেখবে এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী আইন ও বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তদন্তকে স্বাগত জানিয়ে স্বচ্ছতার দাবি তুলেছেন এবং একে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির হাতিয়ার না বানিয়ে প্রকৃত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই তদন্ত ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চ্যানেল ২৪ অনলাইন অথবা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-এর প্রতিবেদনগুলো লক্ষ্য করতে পারেন।
আমি আপনাকে এই বিষয়ে আরও তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারি, যদি জানতে চান:
এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটির কার্যপরিধি ও রূপরেখা কী?
  • পিরোজপুরের ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট বিবরণ।
  • সচিবের অনুপস্থিতিতে ফাইল পাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সচিবালয়ের রুলস অব বিজনেসের আইনি ব্যাখ্যা। 

৩. প্রতিমন্ত্রীর মূল অভিযোগ ও পিরোজপুর প্রকল্প তদন্তের ঘোষণা

এর আগে গতকাল শনিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে রুলস অব বিজনেস লঙ্ঘনের এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

পিরোজপুর জেলার একটি বিশেষ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেখানে সংঘটিত কথিত দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন:

"আমাদের নোটিশে একটা বিশেষ ফাইল এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একজন উপদেষ্টা (আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া) দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের সই ছাড়াই জোর করে ফাইল নিয়েছেন এবং নিজে সই করে অনুমোদন দিয়েছেন। এটি আমাদের নতুন তদন্ত কমিটির আওতাভুক্ত হবে, কারণ এটি রুলস অব প্রসিডিউর এবং রুলস অব বিজনেসের (Rules of Business) চরম পরিপন্থী।"

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের কড়া আইনি যুক্তি ছিল— মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের প্রাতিষ্ঠানিক সই বা সুপারিশ ব্যতিরেকে কখনোই কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টা এককভাবে কোনো ফাইল অনুমোদন দিতে পারেন না। এটি বাংলাদেশের প্রচলিত সচিবালয় নির্দেশিকা ও আইনের কোথাও নেই।

এখন সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমান প্রতিমন্ত্রীর এই মুখোমুখি অনড় অবস্থান এবং 'ফাইল যুদ্ধ' শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, তা দেখতেই মুখিয়ে আছে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সচেতন মহল।

প্রতিবেদক: Senior SEO Consultant BDS Bulbul Ahmed

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মীর শাহে আলম, সচিবের সই ছাড়া ফাইল অনুমোদন, রুলস অব বিজনেস বাংলাদেশ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দুর্নীতি তদন্ত এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসনিক খবরের এমন চুলচেরা, নিরপেক্ষ ও সম্পূর্ণ এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency