প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রংপুর: উত্তরবঙ্গের রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র রংপুর সব সময়ই তার নিজস্ব স্বকীয়তায় ভাস্বর। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এবং বর্তমান ২০২৬ সালের সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা—প্রতিটি বাঁকে রংপুরের মানুষ দিয়েছে সাহসী নেতৃত্ব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম শীর্ষ নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম এখন তাঁর নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের এক নতুন রূপরেখা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) রংপুরের তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ অঞ্চল ছিল মূলত কৃষিভিত্তিক ও জোতদার শাসিত এলাকা। ১৯ শতকের গোড়ায় নীলচাষ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে রংপুরের মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে রংপুরের আবু সাঈদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করেছে।
২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে এটিএম আজহারুল ইসলামের বিজয় কেবল একটি আসনের জয় নয়, বরং এটি দীর্ঘ সময় ধরে বঞ্চিত ও নিপীড়িত একটি রাজনৈতিক ধারার মূল স্রোতে ফিরে আসার প্রতিফলন। ১৯০০ সালের সেই গ্রামীণ সমাজ থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক ডিজিটালাইজড রংপুর—পরিবর্তনের এই দীর্ঘ পথচলায় এখন প্রয়োজন সুশাসন ও সামাজিক সম্প্রীতি, যা আজহারুল ইসলামের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে নির্বাচন-পরবর্তী গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভায় যোগ দেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। সেখানে তিনি বলেন, "জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই আমার মূল চালিকাশক্তি। আমি আপনাদের শাসক নয়, বরং খাদেম হয়ে সেবা করতে চাই।" তিনি দল-মত নির্বিশেষে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গণসংযোগ শেষে দুপুরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামদুল্লাহর কাছে সেবার মান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ১৯০০ সালের শুরুতে যেখানে রংপুরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ছিল কবিরাজি ও প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রিক, ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির এসএম আলমগীর হোসেন এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল হান্নান খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় রংপুরের রাজনীতিতে অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের এই সংসদে এটিএম আজহারুল ইসলামের মতো প্রাজ্ঞ রাজনীতিকের উপস্থিতি উত্তরবঙ্গের মানুষের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করবে। তাঁর এই "খাদেম" হওয়ার মানসিকতা এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতে সরাসরি তদারকি প্রমাণ করে যে, ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশ এখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার চেয়ে 'সেবামূলক রাজনীতি'কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জের উন্নয়নই এখন উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।
সূত্র: যুগান্তর, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), রংপুর জেলা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সরকার আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |