| বঙ্গাব্দ

ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে বিভাজনের রাজনীতি ছাড়তে হবে: জামায়াত আমিরের ভাষণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-02-2026 ইং
  • 1991755 বার পঠিত
ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে বিভাজনের রাজনীতি ছাড়তে হবে: জামায়াত আমিরের ভাষণ
ছবির ক্যাপশন: জামায়াত আমিরের ভাষণ

বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতিমুক্ত ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডা. শফিকুর রহমান

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ২০২৬ সাল এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোটকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় সরাসরি সম্প্রচারিত এই ভাষণে তিনি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার এক অনন্য রূপরেখা পেশ করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, "জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতিমুক্ত একটি কল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়বে। দেশে শান্তি ফিরে আসুক এবং আমরা সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই।"

১৯০০-২০২৬: ইতিহাসের চাকা যেখানে একীভূত

বাংলার রাজনৈতিক অভিযাত্রা ১৯০০ সালের স্বাধিকার চেতনা থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতায় রূপ নিয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এদেশের মানুষকে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে। জামায়াত আমির তাঁর ভাষণে আবরার ফাহাদ, মুগ্ধ, আবু সাঈদ ও ওসমান হাদিদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, "এই হিম্মত ও ত্যাগের ফলেই আজ আমরা পরিবর্তনের কথা বলতে পারছি।"

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯০০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এদেশের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ছিল এমন একটি রাষ্ট্রের জন্য, যেখানে নাগরিকরা তাদের প্রকৃত মালিকানা ফিরে পাবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেই সম্ভব আমূল পরিবর্তন

আসন্ন নির্বাচনে সংসদীয় ভোটের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বা রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ওপর একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমান এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "দেশকে বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বদলাতে চাই। কেবলমাত্র গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় দিলেই রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব। দেশের জনগণ কেমন বাংলাদেশ চায়, সেটা দেশের মানুষকেই ঠিক করতে হবে।"

বিচার বিভাগ ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি

জামায়াত আমির তাঁর ভাষণে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ঘোষণা দেন। তিনি বলেন:

  • বিচার বিভাগ: জামায়াত ক্ষমতায় এলে বিচার বিভাগকে আমূল পরিবর্তন করা হবে। সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের বিচারকের আসনে বসানো হবে।

  • ধর্মীয় সম্প্রীতি: কেউ যদি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কারও ওপর আঘাতের চেষ্টা করে, তবে জামায়াতে ইসলামী তা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।

  • জুলাই বিপ্লবের প্রতিফলন: বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলের বৈষম্য ও জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

পরিবর্তনের বিরোধী মহলের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, কিন্তু একটি বিশেষ মহল এই পরিবর্তনের বিরোধী। কারণ পরিবর্তন হলে তাদের দীর্ঘদিনের অপকর্মের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।" তিনি দেশবাসীকে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে পরিবর্তনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

পরিশেষে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে প্রতিহিংসার বদলে সম্প্রীতিই হবে রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।


সূত্র: বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), জামায়াতে ইসলামী মিডিয়া সেল, বাসস (BSS), প্রথম আলো ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।


বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন

এই প্রতিবেদনটি ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে তৈরি। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনটি কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের একটি লড়াই হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের ভাষণে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে গণভোটের বিষয়টি এবারের নির্বাচনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency