| বঙ্গাব্দ

লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, রকেট ছোড়েছে বন্দুকধারীরা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 06-07-2025 ইং
  • 4553435 বার পঠিত
লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, রকেট ছোড়েছে বন্দুকধারীরা
ছবির ক্যাপশন: লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা

লোহিত সাগরে ফের জাহাজে হামলা: ইয়েমেন উপকূলে বন্দুকধারীদের তাণ্ডব

স্টকহোম | ৭ জুলাই ২০২৫:
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগত পথ লোহিত সাগরে আবারও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেন উপকূলের হোদেইদা বন্দরের অদূরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা রকেটচালিত গ্রেনেড (RPG) এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে একটি চলমান জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ঘটনাস্থল ও পরিস্থিতি

ব্রিটেনের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) সূত্রে জানা যায়,
হোদেইদা বন্দরের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৫১ নটিক্যাল মাইল (৯৪ কিলোমিটার) দূরে এ ঘটনা ঘটে।
জাহাজটিকে একাধিক ছোট নৌযান ঘিরে ফেলে এবং সেখান থেকেই শুরু হয় গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড হামলা।

UKMTO বিবৃতি:

“সশস্ত্র নিরাপত্তা দলও পাল্টা গুলি চালায়। এখনো পুরো পরিস্থিতি চলমান ছিল বলে নিশ্চিত করা হয়।”

ব্রিটেনভিত্তিক নিরাপত্তা সংস্থা AMBRE জানিয়েছে,
প্রায় ৮টি স্কিফ (ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকা) মিলে একযোগে জাহাজটির ওপর হামলা চালায়। প্রথমে ছোট অস্ত্র, পরে RPG ব্যবহৃত হয়।

কে দায়ী?

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা হোদেইদা শহর থেকেই হামলার স্থানটি নিকটবর্তী।
যদিও এ হামলার দায় এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি, সন্দেহের তীর হুতিদের দিকেই

আগের হামলা ও প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পরপরই, হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করে।
এর জেরে:

  • ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালায়

  • প্রতিশোধ হিসেবে হুতি তাদের টার্গেটে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জাহাজও যুক্ত করে

২০২৪ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক প্রকার যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো হলেও, হুতি জানায় যে ইসরায়েলি জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকবে

ক্ষতির মাত্রা: বিশ্ববাণিজ্যে প্রভাব

এই অঞ্চল দিয়ে বিশ্বের প্রায় ১২% পণ্য পরিবহন হয় বলে জানায় International Chamber of Shipping
এই হামলাগুলোর কারণে:

  • অনেক বড় শিপিং কোম্পানি লোহিত সাগর এড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার "Cape of Good Hope" রুট ব্যবহার করছে

  • এতে করে পরিবহন সময় ও খরচ দিগুণ হয়ে যাচ্ছে

  • বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, খাদ্য ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম বাড়ছে

বাংলাদেশের প্রভাব

বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশও এই সাগরপথে চলে।
বিশেষতঃ ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যে এই রুট গুরুত্বপূর্ণ।
সুয়েজ ক্যানেল বা লোহিত সাগর অবরোধ মানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য:

  • ডেলিভারি দেরি

  • শিপিং খরচ বেড়ে যাওয়া

  • রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া

উপসংহার

এই হামলা আরও একবার বুঝিয়ে দিলো যে, কৌশলগত সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বিশ্ববাণিজ্য নিরাপদ নয়।
সশস্ত্র পাহারার প্রয়োজনীয়তা, ডিপ্লোমেটিক ব্যালান্সিং, এবং বিকল্প শিপিং চ্যানেল খুঁজে বের করাও এখন সময়ের দাবি।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency