যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) ফক্স নিউজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
নিচে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং এর প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো:
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর মার্কিন প্রশাসন তাদের অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে। আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ মেমো অনুযায়ী, এই ৭৫টি দেশের আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার (Public Charge) ওপর নির্ভর করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, যারা আমেরিকান জনগণের উদারতার অপব্যবহার করে ওয়েলফেয়ার বা সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তাদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানের কঠোর প্রয়োগ শুরু হয়েছে।
এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার ছাড়াও রয়েছে রাশিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, ইরান, ইরাক, মিসর, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলো। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৭৫টি দেশের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এখন থেকে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নিম্নোক্ত বিষয়গুলো কঠোরভাবে বিবেচনা করবেন:
স্বাস্থ্য ও বয়স: বয়স্ক বা অতিরিক্ত ওজনের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভিসা নাকচ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।
আর্থিক সক্ষমতা: আবেদনকারী নিজের খরচ চালাতে সক্ষম কি না এবং ইংরেজি ভাষায় কতটা দক্ষ তা যাচাই করা হবে।
চিকিৎসা ইতিহাস: দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে এমন শারীরিক অবস্থা বা অতীতে সরকারি নগদ সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস থাকলে ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হবে।
সোমালিয়া কেলেঙ্কারি: মিনেসোটায় সোমালি নাগরিকদের মাধ্যমে সরকারি তহবিলের ব্যাপক অপব্যবহার উদঘাটিত হওয়ায় সোমালিয়াকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির এই পরিবর্তন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯২৪ - ১৯৬৫: ১৯২৪ সালের ‘ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দেশের কোটা পদ্ধতি চালু ছিল। ১৯৬৫ সালে এই প্রথা ভেঙে সবার জন্য সমান সুযোগের নীতি আসে।
২০১৭ - ২০২৪: ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে (২০১৭) বেশ কিছু মুসলিম প্রধান দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরে বাইডেন প্রশাসন তা শিথিল করে।
২০২৫ - ২০২৬: ২০২৪ সালের নভেম্বরে ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত নতুন স্ক্রিনিং নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এসে এই নজিরবিহীন স্থগিতাদেশ দেওয়া হলো। এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠোর অভিবাসন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যারা ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। তবে অ-অভিবাসী ভিসা (যেমন: টুরিস্ট বা বিজনেস ভিসা) এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়বে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নতুন স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন শেষ না করা পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে।
সূত্র: ১. ফক্স নিউজ (Fox News) ও রয়টার্স (Reuters) রিপোর্ট, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬। ২. মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (U.S. State Department) অফিসিয়াল মেমো ও মুখপাত্রের বিবৃতি। ৩. আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও ভিসা নীতি আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |