মিটফোর্ড হাসপাতালে নিরাপত্তাহীনতায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি আরও দুই দিন বাড়ল
ঢাকা, ১৪ জুলাই ২০২৫
ঢাকার ঐতিহাসিক স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে নিরাপত্তার অভাব ও বহিরাগতদের দাপটের প্রতিবাদে এক দিনের কর্মবিরতি শেষে আরও দুই দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
রবিবার রাত ১০টায় এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেন ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি (আইডিএস)। সংগঠনের সভাপতি ডা. ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, সোমবার ও মঙ্গলবার শুধুমাত্র জরুরি বিভাগ চালু থাকবে, বাকি সব বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকবে।
এর আগে শনিবার ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করেন এবং তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
আইডিএস-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসা দেওয়ার সময়ও নিরাপত্তাহীনতা ও বহিরাগতদের উপস্থিতি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আতঙ্কিত করে তুলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক কর্মসূচি, হাসপাতালের অভ্যন্তরে চলা অনিয়ম এবং নারী চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ঘিরে আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপির মাধ্যমে আট দফা দাবি জানানো হয়েছে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৮ দফা দাবি হলো:
১. হাসপাতাল ও মেডিকেল ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা আনসার সদস্য মোতায়েন
২. প্রতিটি গেটে সশস্ত্র আনসার সদস্য স্থাপন
৩. নারী আনসার সদস্য নিয়োগ নিশ্চিত করা
৪. নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হোস্টেলে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন
৫. বর্তমানে কর্মরত আনসারদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান
৬. বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা
৭. হাসপাতালে চলমান অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ
৮. মিটফোর্ড হাসপাতালে একটি স্থায়ী পুলিশ বক্স স্থাপন
এই দাবিগুলোর প্রেক্ষিতে সোমবার সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলেজ অধ্যক্ষ এবং হাসপাতাল পরিচালককে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হবে।
সামগ্রিক প্রেক্ষাপট: স্বাধীনতা-পরবর্তী স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নিরাপত্তা সংকট
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে রাজনৈতিক প্রভাব, ছাত্ররাজনীতির আধিপত্য এবং সরকারি হাসপাতালে দলীয়করণ নানা সংকট তৈরি করেছে। বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালগুলোতে সংঘাত, ভাঙচুর এবং নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটেছে।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক শাসনামলে স্বাস্থ্যখাতে নজরদারি শিথিল হয়ে পড়ে। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্র ফিরে এলেও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বড় অগ্রগতি হয়নি। ২০০৭–২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কিছু কাঠামোগত উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী হয়নি।
২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় ঢাকা মেডিকেল ও অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে বারবার অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় চিকিৎসকদের উপর হামলা, রোগীদের হয়রানি ও নিরাপত্তা বাহিনীর ঢিলেঢালা ভূমিকা সমালোচিত হয়।
২০২৩ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক স্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বলেন, “নিরাপত্তা ছাড়া কোনো সরকারি হাসপাতালে মানসম্পন্ন সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। চিকিৎসক ও রোগী দুজনেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে সহিংসতার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। সেসময়ও একাধিক চিকিৎসক কর্মবিরতিতে যান।
২০২৫ সালে মিটফোর্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলন যেন নতুন করে সেই প্রশ্নগুলোকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
এখনো পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
উপসংহার: নিরাপত্তা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা সম্ভব নয়
একটি আধুনিক, জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে হলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। মিটফোর্ড হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এ আন্দোলন তা আবারও স্মরণ করিয়ে দিলো।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর তা যেন সরকারি ফাইলেই চাপা না পড়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
প্রস্তুত করেছে:
বাংলাদেশ প্রতিদিন রিপোর্টিং ডেস্ক
(উৎস: প্রতিবেদক ও অতীত রাজনৈতিক ঘটনার তথ্যভাণ্ডার)
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |