| বঙ্গাব্দ

সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের সম্পদ, কোনো ব্যক্তির নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-04-2026 ইং
  • 2530805 বার পঠিত
সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের সম্পদ, কোনো ব্যক্তির নয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ছবির ক্যাপশন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পদ নয়’: সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কড়া বার্তা

লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]

ক্যাটাগরি: জাতীয় ও প্রতিরক্ষা

সময়: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | বিকেল ৩:৩০

রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের একক সম্পদ নয়; এটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি জাতীয় স্তম্ভ। বাহিনীর ভেতর কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা বিভাজন যে গ্রহণযোগ্য হবে না, সেই বার্তাও তিনি কঠোরভাবে দিয়েছেন।

১. সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা ও পিলখানা প্রসঙ্গ

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অতীতের বিভিন্ন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন। তিনি বিশেষভাবে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই জঘন্য ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাহিনীকে বিতর্কিত করার যে অপচেষ্টা দেখা গেছে, তার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

২. ২০২৪-এর বিপ্লব ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

তারেক রহমান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাহিনীকে আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার ভূমিকা পালন করতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে সেনাবাহিনীর যে আধুনিকায়ন ও দেশপ্রেমের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

৩. আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের সময় থেকেই এই অর্জন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উচ্চ আসনে পৌঁছেছে। তিনি এই গৌরব ধরে রাখার জন্য বাহিনীর আধুনিকায়নে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ মূলত সশস্ত্র বাহিনীর হারানো গৌরব ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, তার প্রতিফলন প্রতিরক্ষা খাতেও দেখা যাচ্ছে। সেনাবাহিনীকে রাজনীতির উর্ধ্বে রাখার এই ঘোষণা নতুন বাংলাদেশের জন্য এক শক্তিশালী বার্তা।


প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মূল ৫টি পয়েন্ট:

  • জাতীয় সম্পদ: সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক, কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়।

  • রাজনীতিমুক্ত বাহিনী: বাহিনীর ভেতরে কোনো রাজনৈতিক বিভাজন সহ্য করা হবে না।

  • পেশাদারিত্ব: জাতিসংঘ মিশনে অর্জিত সুনাম ধরে রাখতে আধুনিকায়ন অব্যাহত থাকবে।

  • ঐক্য: একটি ঐক্যবদ্ধ সেনাবাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।

  • সংস্কার: ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতের মতো প্রতিরক্ষা খাতেও সংস্কার চলবে।


উপসংহার: নতুন রূপান্তরের অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেবল সেনাবাহিনীর উন্নয়ন নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সংস্কারের মাধ্যমে একটি নতুন রূপান্তরের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, পেশাদার এবং দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীই হবে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর নিরাপত্তার মূল কারিগর।

আপনার মতামত: সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার এই উদ্যোগকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্টে আমাদের জানান।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency