| বঙ্গাব্দ

জামায়াতের নির্বাহী বৈঠক: খালেদা-তাহেরের রোগমুক্তি কামনাসহ গণভোট ও পাঁচ দফা দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-11-2025 ইং
  • 2411175 বার পঠিত
জামায়াতের নির্বাহী বৈঠক: খালেদা-তাহেরের রোগমুক্তি কামনাসহ গণভোট ও পাঁচ দফা দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি।
ছবির ক্যাপশন: জামায়াতের নির্বাহী বৈঠক

🇧🇩 ভোটের মাঠে গণদাবি ও গণভোটের বার্তা: জামায়াতের নির্বাহী বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রে খালেদা-তাহেরের রোগমুক্তি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোটের দাবি এবং দেশের বর্তমান সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে আলোচিত হয়েছে। এর পাশাপাশি, এই বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের আশু রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

বুধবার (২৬ নভেম্বর), রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

গণভোট ও পাঁচ দফা গণদাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জামায়াত

সভায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন এবং নির্বাচনকালীন পরিবেশের ওপর। নির্বাহী পরিষদ মনে করে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও ভয়-ভীতিমুক্ত পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া দেশের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।

  • হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা ও সংবিধান আদেশ (জুলাই জাতীয় সনদ): জামায়াত এই সভা থেকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান আদেশ)’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক জনমত সৃষ্টির জন্য দেশব্যাপী জোর প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে দল সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা সংস্কারের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করল। **(১৯৫০-২০২৫ প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রায়শই সংবিধান সংশোধন বা সাংবিধানিক কাঠামোর পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে সংবিধানের বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে আসছে। এই সিদ্ধান্ত সেই ধারারই একটি অংশ।)

  • ৮ দলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি: নির্বাচনের পূর্বে গণভোট অনুষ্ঠানসহ পাঁচ দফা গণদাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলনরত ৮-দলীয় জোটের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশ সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচিটি মূলত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ।

জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু: খালেদা ও তাহেরের জন্য দোয়া

বৈঠকে দলের অন্যতম নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভায় তাদের দ্রুত রোগমুক্তি ও সুস্থতার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। একইসঙ্গে জামায়াত তাদের আশু আরোগ্যের জন্য দলের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর নিকট দোয়ার আবেদন জানিয়েছে।

  • আলোচনা ও প্রেক্ষাপট: দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। **(১৯৯০-এর দশক থেকে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে কৌশলগত রাজনৈতিক জোট পরিলক্ষিত হয়েছে, যা একাধিকবার সরকার গঠনে বা সরকারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে। এই দোয়া রাজনৈতিক ঐক্যের একটি প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ।) **

রাজনৈতিক বক্তাদের বক্তব্য ও ঐতিহাসিক সময়কাল

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচন এবং গণভোটের আলোচনা বারবার ফিরে এসেছে।

  • ১৯৯৬ সালের আন্দোলন: নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তৎকালীন বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত সৃষ্টি করেছিল। ১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন বিরোধী দলের এক নেতা বলেছিলেন, “নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে জনগণ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না।” এই আন্দোলনের ফলেই সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত হয়। (১৯৫০-২০২৫ প্রেক্ষাপট: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রধান দলগুলোর মধ্যে সংঘাতের একটি মূল সময়কাল ছিল ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি।)

  • ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সে সময় জামায়াতের একজন শীর্ষ নেতা বলেছিলেন, "গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের ভোটের জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত রাজপথে থাকব।"

  • ২০১৮ সালের নির্বাচন পরবর্তী মন্তব্য: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধান বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে "ভোট ডাকাতির" অভিযোগ তোলা হয়। এই সময়ে একজন প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মন্তব্য করেছিলেন, "নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো না গেলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না।" **(২০২৫ প্রেক্ষাপট: ২০২৪-২০২৫ সালে এসেও নির্বাচনকালীন সরকার ও ভোটের পরিবেশ নিয়ে আন্দোলন ও সংঘাতের আশঙ্কা রাজনৈতিক অঙ্গনকে অস্থির করে রেখেছে। জামায়াতের এই বৈঠক সেই অস্থিরতারই প্রতিফলন।) **

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বার্ষিক অধিবেশন প্রস্তুতি

বৈঠকে আগামী ২৮ ও ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বার্ষিক অধিবেশনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মজলিসে শূরা জামায়াতের নীতি ও কৌশল নির্ধারণের সর্বোচ্চ ফোরাম হিসেবে কাজ করে। এই অধিবেশন থেকে দল আগামী দিনের আন্দোলন, নির্বাচন প্রস্তুতি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সূত্র

১. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সভার কার্যবিবরণী (২৬ নভেম্বর, ২০২৫)। ২. নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে ১৯৯৬ ও ২০০৭ সালের রাজনৈতিক বিশ্লেষণী প্রতিবেদন। ৩. বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের রাজনৈতিক কলাম, (নভেম্বর, ২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency