| বঙ্গাব্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-কে বরণ: ঐকতান শোভাযাত্রা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-04-2025 ইং
  • 4681895 বার পঠিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-কে বরণ: ঐকতান শোভাযাত্রা
ছবির ক্যাপশন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-কে বরণ: ঐকতান শোভাযাত্রা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-কে বরণ: ঐকতান শোভাযাত্রা

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-কে বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে এক বিশেষ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই শোভাযাত্রাটি সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় শুরু হয়ে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র দিয়ে একটি বিশেষ রুটে চলতে থাকে, এবং সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেষ হয়। বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী এই শোভাযাত্রা শুধু দেশের মানুষকেই নয়, বিদেশি অতিথিদেরও আকর্ষণ করেছে, যা ছিল অত্যন্ত রঙিন এবং সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতীক।

শোভাযাত্রার পথ

শোভাযাত্রাটি শুরু হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে। প্রথমে এটি শাহবাগ মোড় ঘুরে টিএসসি মোড়, শহীদ মিনার, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা দিয়ে আবার চারুকলা অনুষদে ফিরে আসে। এই পথে সুশৃঙ্খলভাবে চলতে থাকে শোভাযাত্রাটি, এবং পুরো ঢাকা শহরের মধ্যে এটি এক বিশাল সাংস্কৃতিক আয়োজনে পরিণত হয়।

শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য এবং নেতৃত্ব

শোভাযাত্রাটি ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজন করা হয়। এর নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তার নেতৃত্বে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী একত্রিত হয়ে নতুন বছরের আগমন উদযাপন করেন। শোভাযাত্রায় ২৮টি জাতিগোষ্ঠী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিদেশি অতিথিরা অংশ নেন, যা বৈশ্বিক ঐক্য ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির প্রতীক হয়ে ওঠে।

শোভাযাত্রার বিষয়বস্তু ও মূল মোটিফ

শোভাযাত্রার মূল মোটিফ ছিল ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি’। এই মুখাবয়বটি তৈরি করা হয়েছিল ককশিট দিয়ে, যা কেবল প্রতীকী ছিল না, বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা প্রদান করছিল। শোভাযাত্রার অংশ হিসেবে আগের তৈরি মুখাবয়বটি পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং নতুন মুখাবয়বটি তৈরি করা হয়। এটি ছিল প্রতিবাদ ও নতুন সংগ্রামের প্রতীক, যা বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে অন্ধকার দিকগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি চিহ্ন।

শোভাযাত্রায় আরও এক বিশেষ মোটিফ ছিল মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের স্মরণে ‘পানি লাগবে পানি’। মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ২০১৩ সালের জুলাই মাসে আন্দোলনের সময় নিহত হন। তার স্মরণে শোভাযাত্রায় ‘পানি লাগবে পানি’ মুদ্রিত প্রতীকটি প্রদর্শন করা হয়, যা ছিল তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। এই প্রতীকটির মাধ্যমে শোভাযাত্রা একটি দারুণ মানবিক ও রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে।

সাংস্কৃতিক প্রতিকৃতি ও অংশগ্রহণ

শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া মানুষের হাতে ছিল নানা ধরনের প্রতিকৃতি। পায়রা, মাছ, বাঘ, তরমুজ এবং আরও অনেক ঐতিহ্যবাহী প্রতীক শোভাযাত্রার মধ্যে দেখা গিয়েছিল। এসব প্রতিকৃতি ছিল বাংলাদেশের সংস্কৃতির এক অনন্য চিত্র, যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য এবং দেশের মুক্তির সংগ্রামকে প্রতিফলিত করছিল।

এছাড়াও, এই শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সদস্যরা অংশ নেন। বিদেশি অতিথিরাও শোভাযাত্রায় যোগ দেন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের চমৎকার দৃষ্টান্ত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি

শোভাযাত্রা ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বাহিনী, র‍্যাব এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করা হয়েছিল যাতে শোভাযাত্রা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে না পারে। এজন্য সড়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল, যা সবাইকে স্বস্তি প্রদান করেছে।

শেষ কথা

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোভাযাত্রাটি ছিল এক ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজন। এই আয়োজন শুধু নতুন বছরের আগমনকে বরণ করেই শেষ হয়নি, বরং এটি একটি রাজনৈতিক এবং সামাজিক বার্তা পরিবেশনও করেছে। ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’—এই শ্লোগানে সারা দেশ এবং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষের একত্রিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়েছে এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে।

এটি একটি দারুণ উদাহরণ যে কীভাবে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী এবং সংস্কৃতির মানুষেরা একত্রিত হয়ে, নতুন বছরের শুরুতে সমানতালে এগিয়ে চলতে পারেন।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency