| বঙ্গাব্দ

নাটোরে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন: দুলুর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-01-2026 ইং
  • 3974593 বার পঠিত
নাটোরে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন: দুলুর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: দুলু

জিয়াউর রহমানের ঘোষণা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র: নাটোরে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বক্তব্য

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান অবিস্মরণীয়। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা যুবদল ও পৌর যুবদল আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও নাটোর-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এ কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্বাধীনতার ঘোষণা ও জিয়াউর রহমানের ভূমিকা

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, "১৯৭১ সালে যখন জাতি এক চরম ক্রান্তিলগ্নে উপনীত হয়েছিল, তখন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাই বাংলাদেশের লাখো কোটি মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তাঁর ঘোষণা ছিল দিশেহারা জাতির জন্য এক মুক্তির বার্তা।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, জিয়াউর রহমান ছিলেন তার অন্যতম রূপকার।

রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯০০ থেকে ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিক্রমা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই (১৯০০ সাল) এই ভূখণ্ডে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও স্বায়ত্তশাসনের আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর ছিল।

  • ১৯০০-১৯৪৭ (ব্রিটিশ আমল): এ সময়কাল ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার লড়াই। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব—প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা।

  • ১৯৫২-১৯৭১ (পাকিস্তান আমল): ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালির অস্তিত্বের লড়াই।

  • বাকশাল ও গণতন্ত্র হত্যা: দুলু তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে 'বাকশাল' কায়েম করেছিলেন। সে সময় মাত্র চারটি পত্রিকা বাদে সব সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

  • গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা: ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেন। তিনি সব মানুষের রাজনৈতিক অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।

  • ২০২৪-২০২৬ (বর্তমান প্রেক্ষাপট): ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের এই বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ আবারও এক বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দুলু বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শই হবে একটি সুন্দর ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার মূল ভিত্তি।

আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু শহীদ জিয়াকে 'আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জিয়াউর রহমান কেবল রণাঙ্গনের বীর ছিলেন না, বরং তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা পাওয়া দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার নায়কও ছিলেন। তাঁর প্রবর্তিত ১৯ দফা কর্মসূচি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আজও এ দেশের মানুষের জন্য প্রেরণা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

নলডাঙ্গা উপজেলার পাবনাপাড়া শহীদ নাজমুল হক সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস, জেলা বিএনপির সদস্য সাংবাদিক নাসিম উদ্দিন নাসিম প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।


সূত্র: যুগান্তর অনলাইন, বিএসএস (BSS), নাটোর জেলা বিএনপি প্রচার সেল এবং রাজনৈতিক ইতিহাস আর্কাইভ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency