তারাগঞ্জে নির্বাচনি সভায় আজাহারুল ইসলাম: “বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে”
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রংপুরের তারাগঞ্জে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও নির্বাচনি সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলাম বলেন, দেশের রাজনীতি আজ চ্যালেঞ্জের মুখে। স্বাধীনতার পর থেকেই বিদেশি প্রভাব, অর্থনৈতিক শোষণ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা জাতীয় অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে; তাই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
রোববার (২৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টায় তারাগঞ্জ বাজারে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (IBWF) আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অতীতে যে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল তা আদালতের মাধ্যমে খারিজ হয়েছে। তার দাবি—এ অভিযোগ তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য করা হয়েছিল।
সভায় তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান জানান। তার মতে, সব প্রতিবেশীর সঙ্গে সহাবস্থান প্রয়োজন হলেও দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা যেন কোনো অবস্থাতেই বিঘ্নিত না হয়। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে।”
এ সময় তিনি আরও বলেন যে দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তারা আপসহীন থাকবে এবং জনগণের করের টাকা জনগণের কল্যাণেই ব্যবহৃত হবে। তিনি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, জনগণের ভোটের ক্ষমতাই পরিবর্তন আনতে পারে; অতীতে যেসব রাজনৈতিক দল ভোট পেয়েও জনকল্যাণে ব্যর্থ হয়েছে, সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রতি সমর্থন চান তিনি এবং বলেন, “আপনাদের আস্থা পেলে আপনাদের আমানতের খেয়ানত করব না।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন IBWF তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মোশারফ হোসেন লেবু। আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির এসএম আলমগীর হোসেন, ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম, নাজিমুদ্দিনসহ স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা।
আজাহারুল ইসলামের বক্তৃতা একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়—এর পেছনে বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক পটভূমি রয়েছে।
| বছর/সময়কাল | গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট |
|---|---|
| ১৯৫০–১৯৭১ | ভাষা আন্দোলন → স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন → মুক্তিযুদ্ধ |
| ১৯৭৫–১৯৯০ | সামরিক শাসন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গণঅভ্যুত্থান |
| ১৯৯১–২০০৮ | বহুদলীয় গণতন্ত্র, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন |
| ২০০৯–২০২৩ | যুদ্ধাপরাধের বিচার, উন্নয়ন–বিরোধী রাজনীতি দ্বন্দ্ব |
| ২০২৪–২০২৫ | কোটা আন্দোলনের পর সরকার পতন → তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রত্যাবর্তন |
২০০৯–২০২৩ সময়কালে যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং জামায়াত সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও দণ্ড রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রভাব ফেলে। ২০২4 সালে সহিংস রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসায় বিরোধী দলগুলো আবার সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, আর এই প্রেক্ষাপটেই আজাহারুল ইসলামের নির্বাচনি বার্তা সামনে এসেছে—“স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনতার ঐক্য।”
বাংলাদেশের নির্বাচনি রাজনীতিতে দেখা যায়—
১) জাতীয় নির্বাচন সামনে এলে রাজনৈতিক দলগুলো আদর্শের পরিবর্তে “স্বার্থ রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা” বিষয়কে প্রচারণায় বড় করে তুলে ধরে।
২) অতীতের বিচার, দমনপীড়ন, বিদেশ নীতি—এগুলো ভোটের আচরণ প্রভাবিত করতে ব্যবহৃত হয়।
৩) অর্থনীতি ও ব্যবসায়ীদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার মূল কারণ—ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের ভোট ও অর্থনৈতিক অবদান নির্বাচনি প্রচারণায় প্রভাব ফেলে।
৪) আজাহারুল ইসলামের বক্তব্য নির্বাচনি কৌশলের অংশ—জাতীয়তাবাদ + অর্থনৈতিক সুরক্ষা + রাজনৈতিক প্রতিশোধ এবং ভয়ের বয়ান।
ভবিষ্যতে এই বয়ান ভোটে কী ফল আনতে পারে—তা নির্ভর করবে
• তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন কতটা অবাধ হয়
• তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব
• ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সম্প্রদায়ের সমর্থনের ওপর
১) বাংলাদেশ রাজনৈতিক ইতিহাস – Banglapedia
২) UK House of Commons Library, Bangladesh: The fall of the Hasina Government and recent developments, ২০২৫
৩) আন্তর্জাতিক সংবাদ আর্কাইভ – The Hindu, Al Jazeera, Reuters (বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক ও ২০২৪ রাজনৈতিক সংকট সংক্রান্ত)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |