প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫—এই দীর্ঘ ৭৫ বছর কেবল সময়ের ব্যবধান নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয় ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ের মহাকাব্য। এই দীর্ঘ পরিক্রমায় যার নামটি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বারবার উচ্চারিত হয়েছে, তিনি হলেন বেগম খালেদা জিয়া। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ফার্স্ট লেডি থেকে শুরু করে দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান ২০২৫ সালের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তাঁর রাজনৈতিক উপস্থিতি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৯৫০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তানে যখন ভাষা আন্দোলন ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি তীব্র হচ্ছে, তখন থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা শুরু। সেই উত্তাল সময়ে যে রাজনৈতিক কাঠামোর ভিত তৈরি হয়েছিল, তার পূর্ণতা পায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। স্বাধীনতার পর ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে আধুনিক বাংলাদেশের যে উন্নয়নমুখী রাজনীতির সূচনা হয়, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন তাঁর প্রধান সহযাত্রী।
বেগম খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক প্রভাব কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি যখন ফার্স্ট লেডি ছিলেন, তখনই তাঁর মার্জিত উপস্থিতি বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। সে সময় তিনি যুক্তরাজ্যের লৌহমানবীখ্যাত প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এবং নেদারল্যান্ডসের রানী জুলিয়ানার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর কূটনৈতিক দূরদর্শিতা আরও স্পষ্ট হয়। ১৯৯২ সালে ভারত সফরের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি.ভি নরসিমা রাওয়ের সাথে তাঁর বৈঠকটি ছিল ঐতিহাসিক। পরবর্তীতে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি, মনমোহন সিং এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সাথে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় তিনি দৃঢ় অবস্থান নেন। ২০১৪ সালে সর্বশেষ ভারত সফরের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথেও তাঁর সফল আলোচনা সম্পন্ন হয়।
বেগম জিয়ার শাসনামলে চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের এক স্বর্ণযুগ অতিবাহিত হয়েছে। চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিংয়ের সাথে তাঁর কূটনৈতিক সাক্ষাৎগুলি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া ২০০৬ সালে সৌদি আরব সফরে গিয়ে তিনি তৎকালীন বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের সাথে সাক্ষাৎ করেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচন করে।
বিশ্বরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বেগম জিয়ার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিউইয়র্ক সফরকালে মার্কিন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটনের সাথে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ হয়। পরবর্তীতে হিলারির সাথে তাঁর একাধিক বৈঠক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছিল।
ইতিহাসের পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৫০ সালে শুরু হওয়া বাঙালির গণতান্ত্রিক লড়াই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এক নতুন রূপ লাভ করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। ২০২৫ সালের বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এখন এক বিশাল সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন কারাবন্দী ও অসুস্থ থাকার পর ২০২৫ সালের এই নতুন বাংলাদেশে বেগম খালেদা জিয়া এখন মুক্ত পরিবেশে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে জাতীয় ঐক্য ও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে যে আলাপ-আলোচনা চলছে, সেখানে বেগম জিয়ার আদর্শ ও অভিজ্ঞতাকে এখনও বড় একটি অংশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ১৯৫০-এর স্বাধিকার আর ২০২৫-এর বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন যেন একই সূত্রে গাঁথা।
১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫—এই দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশ অনেক বাধা অতিক্রম করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটেই নয়, বরং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমৃত্যু চেষ্টা চালিয়েছেন। ২০২৫ সালের নতুন দিগন্তে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই কূটনৈতিক লিগ্যাসি আজও প্রাসঙ্গিক।
তথ্যসূত্র: ১. গুগল নিউজ আর্কাইভ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন (২০২৪-২৫)। ২. যুগান্তর ও বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর কূটনৈতিক আর্কাইভ ও ঐতিহাসিক নথি। ৩. জাতীয় প্রেস ক্লাব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈদেশিক সফরের বিবরণী।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |