বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-১৫ আসন থেকে জয়লাভ করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তাঁর নির্বাচনি ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী, একজন প্রার্থী তাঁর নির্বাচনি এলাকায় প্রতি ভোটারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারেন। ঢাকা-১৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন হওয়ায় এখানে সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল ৩৫ লাখ ১৭ হাজার ১৮০ টাকা। ডা. শফিকুর রহমান মোট ৩২ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৮ টাকা ব্যয় করেছেন, যা নির্ধারিত আইনি সীমার মধ্যেই রয়েছে।
জমা দেওয়া বিবরণী অনুযায়ী, নির্বাচনি প্রচারণার বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের বণ্টন ছিল নিম্নরূপ:
| ব্যয়ের খাত | টাকার পরিমাণ (প্রায়) |
| সরাসরি নির্বাচনি প্রচারণা | ১৫,৫৫,৫৫০ টাকা |
| জনসভা ও পথসভা আয়োজন | ৫,৪৫,০০০ টাকা |
| নির্বাচনী ক্যাম্প পরিচালনা | ৪,১৭,৬৪২ টাকা |
| এজেন্ট ও স্টাফ খরচ | ২,৯৩,৮৯০ টাকা |
| আবাসন ও প্রশাসনিক খাত | ২,৮৭,০০০ টাকা |
| পরিবহন খরচ | ৮৮,০৯৬ টাকা |
| সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণা | ৭১,০৬০ টাকা |
আধুনিক নির্বাচনের ধারায় সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব বাড়লেও ডা. শফিকুর রহমান এই খাতে মাত্র ৭১ হাজার ৬০ টাকা ব্যয় করেছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি প্রথাগত গণসংযোগ এবং সশরীরে উপস্থিত থেকে প্রচারণার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের এই পরিমিত ব্যয় বর্তমান সময়ের ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলের একটি ভিন্ন দিক উন্মোচন করে।
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের এই সময়মতো ব্যয়ের হিসাব প্রদান রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের পরপরই ব্যয়ের সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের একটি অংশ, যা অন্যান্য প্রার্থীদের জন্যও একটি অনুসরণীয় উদাহরণ হতে পারে।
নির্বাচনি ব্যয় নিয়ে বাংলাদেশে অতীতে অনেক বিতর্ক থাকলেও, ডা. শফিকুর রহমানের এই হিসাব বিবরণী একটি সুশৃঙ্খল প্রচারণার পরিচয় দেয়। বিশেষ করে নির্বাচনি ক্যাম্প এবং জনসভা আয়োজনে ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে। ৩.৫ লাখ ভোটারের এই বিশাল এলাকায় ৩৫ লাখ টাকার নিচে ব্যয় সম্পন্ন করা একজন শীর্ষ নেতার জন্য সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ। আগামীতে অন্যান্য সংসদ সদস্যদের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশিত হলে আমরা নির্বাচনী অর্থনীতির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাব। তবে স্বচ্ছতা কেবল কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেও বজায় থাকা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |