প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ তারিখ: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া দুই পর্বের সাক্ষাৎকার দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে অনেক তথ্য ‘চেপে যাওয়া’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আজ ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ১৯৫২ ও ১৯৭১-এর প্রতিটি সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের প্রতিটি শব্দ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থেকেছে। ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের ‘নতুন বাংলাদেশে’ যখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কথা বলা হচ্ছে, তখন খোদ রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের এই অনাস্থা এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক গোপনীয়তার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল যুগে সত্য গোপন করা যে অসম্ভব, ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য সেই সত্যকেই মনে করিয়ে দেয়।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর পোস্টে ৫ আগস্টের সরকার গঠন ও পদত্যাগ নিয়ে রাষ্ট্রপতির বর্তমান বক্তব্যের সাথে ওই দিনের বাস্তব পরিস্থিতির অসংগতির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যের প্রধান পয়েন্টগুলো হলো:
তথ্য গোপন: রাষ্ট্রপতি ৫ আগস্টের ঘটনাবলী নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এড়িয়ে গিয়েছেন বা চেপে গিয়েছেন।
বক্তব্যের বৈপরীত্য: ৫ আগস্ট পলাতক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত নেতাদের যা বলেছিলেন এবং জাতিকে যা জানিয়েছিলেন, বর্তমান সাক্ষাৎকারে তিনি তা স্বীকার করেননি।
অগ্রহণযোগ্য আচরণ: ডা. শফিকুর রহমানের মতে, সেদিন রাষ্ট্রপতি যা বলেছিলেন আর এখন যা বলছেন—তার হিসেব মেলানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রপতিরই। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ ধরণের দ্বিমুখী আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
জাতির সচেতনতা: তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘জাতি অবুঝ নয়’ এবং কোটি কোটি মানুষ সেদিন যা শুনেছে, তার বিপরীত বক্তব্য দিয়ে সত্য আড়াল করা যাবে না।
স্মরণযোগ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে এক বৈঠকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে পদত্যাগপত্রের ‘অস্তিত্ব’ নিয়ে তাঁর রহস্যময় মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করে, যার রেশ ২০২৬ সালের এই সাক্ষাৎকারেও ফুটে উঠেছে।
| বিষয় | রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক দাবি (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) | জামায়াত আমিরের পাল্টা দাবি |
| প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ | সাক্ষাৎকারে অনেক তথ্য নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। | ৫ আগস্ট বঙ্গভবনে যা বলেছিলেন, এখন তা অস্বীকার করছেন। |
| তথ্য প্রকাশ | দুই পর্বের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। | অনেক তথ্যই সুকৌশলে ‘চেপে গিয়েছেন’। |
| জাতির কাছে স্বচ্ছতা | ঘটনা প্রবাহের বর্ণনা দিয়েছেন। | কোটি কোটি মানুষের সামনে দেওয়া বক্তব্যের হিসেব রাষ্ট্রপতিকেই মেলাতে হবে। |
সূত্র: ১. জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজের পোস্ট (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।
২. দেশের জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত রাষ্ট্রপতির দুই পর্বের বিশেষ সাক্ষাৎকার (২০২৬)।
৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাস ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংক্রান্ত বিবর্তন দলিল।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার এবং তার বিপরীতে ডা. শফিকুর রহমানের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, ৫ আগস্টের বিপ্লবের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ১৯০০ সালের সেই গোপন নথিপত্রের যুগের অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সত্যের সঠিক উন্মোচনই এখন জনগণের দাবি। রাষ্ট্রপতির এই সাক্ষাৎকার পরবর্তী রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কোনো মোড় নেয় কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |