গাজা সিটি, ১৮ জুন ২০২৫
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও রক্তাক্ত সকাল। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া একাধিক ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ত্রাণ সহায়তার জন্য লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় নিহত হয়েছেন ২৯ জন। ইসরায়েলি বাহিনী (আইডিএফ) সরাসরি এ হামলার দায় স্বীকার না করলেও তাদের কর্মকাণ্ডে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে গাজার মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চল।
এই প্রাণঘাতী আক্রমণে আন্তর্জাতিক মহলে আবারও প্রশ্ন উঠেছে: “মানবিক করিডোর” কি কেবল কথার বুলি? নাকি তা সত্যিই কার্যকর?”
সকালে দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি শরনার্থী শিবিরে চালানো বিমান হামলায় প্রাণ হারান নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮ জন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা ভেবেছিলেন ওই এলাকা “নিরাপদ অঞ্চল” হিসেবে চিহ্নিত ছিল, কিন্তু বোমার শব্দে মুহূর্তেই কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।
শিবিরের এক বাসিন্দা বলেন,
“আমরা শুধু একটু খাবারের অপেক্ষায় ছিলাম। অথচ ফিরে পেলাম সন্তানহারা মায়ের কান্না আর ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়া নিথর দেহ।”
গাজার মাঘাজি শরনার্থী শিবিরে আইডিএফের হামলায় মৃত্যু হয় একটি পরিবারের সব সদস্যের—স্বামী, স্ত্রী ও তাদের দুই শিশু সন্তান। তারা সবাই আশ্রয় নিয়েছিলেন একটি রিলিফ ট্রাকের পাশে, যেখানে স্থানীয় লোকজন খাবার বিতরণের জন্য অপেক্ষা করছিল।
এই ট্র্যাজেডিকে “ইচ্ছাকৃত গণহত্যা” আখ্যা দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। তারা বলেছে,
“ইসরায়েল জানে কোথায় মানুষ ত্রাণের আশায় জড়ো হয়। সেখানেই টার্গেট করে হামলা চালানো নিছক দুর্ঘটনা নয়—এটি বর্বরতা।”
মধ্য গাজার বেশ কয়েকটি এলাকায় বিমান ও কামান হামলার ফলে আহত হয়েছেন অন্তত ১০০ জনের বেশি। হাসপাতালগুলোতে জায়গা সংকট তীব্রতর, আহতদের অনেকেই চিকিৎসা না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে আছেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, এখন আর ওষুধ বা স্যালাইন নয়—প্রয়োজন শুধু জীবন বাঁচানোর সুযোগ।
এ নিয়ে কয়েক সপ্তাহে অন্তত ৫ বার ত্রাণের লাইনে দাঁড়ানো মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু কোনো তদন্ত হয়নি। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন বলেছে, “মানবিক সহায়তার লাইনে হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।”
আইএইচআরসি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, রেড ক্রিসেন্ট—সবাইই গাজার মানবিক পরিস্থিতিকে ‘চরম বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন হামলার বিষয়ে “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করলেও সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, “মানবিক করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে গাজার জনগণকে আমরা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছি।”
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইসরায়েলের ‘নিরাপত্তার অধিকারের’ কথা পুনর্ব্যক্ত করে চলেছে।
গত আট মাস ধরে চলা সংঘাতে গাজা কার্যত এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই, জ্বালানি নেই—এবং প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছে ত্রাণ পেতে গিয়েই।
গাজা সিটির একজন শিক্ষক বলেন,
“বাঁচার জন্য এখন যুদ্ধ করতে হয় না, শুধু খাবার খুঁজতে গেলেই মরতে হয়।”
হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে,
“ত্রাণের লাইনে থাকা নিরস্ত্র মানুষের ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নির্বিচার হামলা ইচ্ছাকৃত গণহত্যা। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতা এই বর্বরতাকে উৎসাহিত করছে।”
তারা আরও হুঁশিয়ার করে বলেছে, “এই হত্যাযজ্ঞের জবাব দেওয়া হবে যথাসময়ে এবং যথাযথভাবে।”
আন্তর্জাতিক রাজনীতি যতই কূটনৈতিক ভাষায় ঘুরপাক খাক, গাজার রাস্তায়-রাস্তায় জমছে রক্ত। মানুষ মরছে খাবারের লাইনে, আশ্রয়শিবিরে, হাসপাতালে, স্কুলে—যেখানে ‘নিরাপদ’ ভাবা হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের আক্রমণ কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে স্পষ্টত যুদ্ধ।
বিশ্ব কী করবে এখন? মানবতার পক্ষ নেবে, নাকি রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশে আরেকটি গণহত্যার পাতায় চুপচাপ স্বাক্ষর করবে?
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |