প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে আকস্মিক বিপর্যয়ের কারণে মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও ঢাকার উড়াল মেট্রোরেল চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। মেট্রোরেলের মূল দুটি সাবস্টেশনের একটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে গেলেও অন্য সাবস্টেশনের স্বয়ংক্রিয় বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেন চলাচল শতভাগ সচল রাখা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও নিজস্ব বিকল্প ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা পর্যন্ত মেট্রোরেল পরিচালনা করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম নিশ্চিত করে বলেন, “জাতীয় গ্রিডে আংশিক বিপর্যয়ের পরও ঢাকার মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। এ সময় উত্তরা সাবস্টেশন থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় ট্রেন চলাচলে কোনো বিলম্ব বা সমস্যা সৃষ্টি হয়নি।”
বর্তমানে রাজধানীর উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরোদমে চালু রয়েছে মেট্রোরেল। এ রুটে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ বজায় রাখার জন্য উত্তরা ও মতিঝিলে দুটি প্রধান সাবস্টেশন রয়েছে। ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, উত্তরা সাবস্টেশনে টঙ্গী থেকে এবং মতিঝিল সাবস্টেশনে মানিকনগর থেকে আলাদা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর মতিঝিল সাবস্টেশনের বিদ্যুৎ সংযোগটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে ডিএমটিসিএলের বিশেষ ব্যাকআপ ও স্বয়ংক্রিয় সংযোগব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেনের পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মুহূর্তেই উত্তরা সাবস্টেশনের আওতায় চলে আসে। ফলে উত্তরা থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে পুরো লাইনে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে কোনো কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বা দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হয়ে গেলেও ট্রেন সচল রাখতে মেট্রোরেলের সুনির্দিষ্ট দুটি বিকল্প প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে:
১. ৩৩ কেভি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা: এটি মূলত ডিএমটিসিএলের নিজস্ব স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ব্যাকআপ হিসেবে এটি সচল হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে টানা প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো বিঘ্ন ছাড়া মেট্রোরেল পরিচালনা করা যায়।
২. ইমার্জেন্সি সাব সিস্টেম (ইএসএস): প্রথম বিকল্প ব্যবস্থার বিদ্যুৎ শেষ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর করা যায় ইমার্জেন্সি সাব সিস্টেম বা ইএসএস। এটি মূলত অত্যাধুনিক বিশাল ব্যাটারিতে ব্যাকআপ বিদ্যুৎ সঞ্চয় করে রাখার বিশেষ ব্যবস্থা। চরম জরুরি পরিস্থিতিতে এই সংরক্ষিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অতিরিক্ত আরও এক ঘণ্টা মেট্রোরেল চালু রাখা সম্ভব।
অর্থাৎ, জাতীয় গ্রিড থেকে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও প্রথমে নিজস্ব জরুরি বিদ্যুৎ এবং পরবর্তীতে ব্যাটারির সংরক্ষিত শক্তি কাজে লাগিয়ে টানা ৩ ঘণ্টা মেট্রোরেল সচল রাখা সম্ভব। তবে এই দুই বিকল্প ব্যবস্থার বিদ্যুৎও শেষ হয়ে যাওয়ার আগে যদি জাতীয় গ্রিড স্বাভাবিক না হয়, কেবল তখনই নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করতে হবে।
ডিএমটিসিএলের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম এই প্রযুক্তির ওপর আস্থা প্রকাশ করে বলেন, সারা দেশে বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও ব্যাকআপ ও বিকল্প ব্যবস্থার সাহায্যে অন্তত তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ঢাকায় পুরোদমে মেট্রোরেল চালানো সম্ভব হবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |