প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
লক্ষ্মীপুর, ২০ অক্টোবর ২০২৫ (সোমবার): বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতিকে “বিতাড়িত” করে “জিরোতে” নামানোর অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম। দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “সব জায়গায় আমরা দুর্নীতিকে ‘না’ বলব—আমরা কেউ দুর্নীতি করব না, দুর্নীতি হতে দেব না—এভাবেই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে।”
তিনি আরও বলেন, কেবল ডিগ্রিধারী বা উচ্চতর ডিগ্রি নয়—নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়েই দেশের পরিবর্তন সম্ভব। তাঁর ভাষায়, “যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, নীতিনির্ধারণ করেন—তাদের ব্যর্থতার কারণেই বাংলাদেশ বহুবার দুর্নীতিতে ‘চ্যাম্পিয়ন’ হয়েছে; এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক—দুই স্তরেই ‘জিরো টলারেন্স’ দরকার।”
অনুষ্ঠানটি কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত হয়। সভাপতিত্ব করেন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রহমান; সঞ্চালনায় ছিলেন কলেজ শিবিরের সভাপতি আইয়ুব হোসেন ফাহিম। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) জেনারেল সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর শহর শিবির সভাপতি একেএম ফরিদ উদ্দিনসহ আরও অনেকে। ড. রেজাউল করিম নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “জ্ঞান–দক্ষতার সঙ্গে নৈতিকতার সমন্বয় ঘটাতে পারলেই প্রজন্ম দেশকে বদলে দেবে।”
বক্তার বক্তব্যে “বাংলাদেশ চারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে”—এ দাবি শোনা গেলেও আন্তর্জাতিক সূচকে এ তথ্য পাঁচ বছর টানা (২০০১–২০০৫) শীর্ষে থাকার রেকর্ড দেখায়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করাপশন পারসেপশন্স ইনডেক্স (CPI)–এ ওই পাঁচ বছরে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে অবস্থান করেছিল—এ তথ্য পুরোনো প্রতিবেদন–সারসংক্ষেপে সংকলিত।
সর্বশেষ চিত্রও উদ্বেগজনক। CPI 2024–এ বাংলাদেশ ১০০–তে ২৩ স্কোর নিয়ে ১৮০ দেশের মধ্যে ১৫১তম স্থানে—যা গত বছরের তুলনায় এক ধাপ অবনতি। অর্থাৎ “জিরো করাপশন” লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী হলেও ডেটা বলছে—এখানে পৌঁছাতে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।
বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক/ACC) গঠিত হয় ২০০৪ সালে—দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী। আইনে স্বাধীন কমিশনের কথা থাকলেও এর কার্যকরিতা, তদন্ত–স্বাধীনতা, এবং মামলার প্রক্রিয়া–গতিশীলতা নিয়ে নাগরিক মহলে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। “জিরো টলারেন্স” বাস্তবায়নযোগ্য করতে হলে—তদন্ত–প্রসিকিউশনে স্বাধীনতা, ক্রস–এজেন্সি ডেটা–শেয়ারিং, স্বার্থের সংঘাত প্রতিরোধ, এবং সরকারি ক্রয়–শুল্ক–কর–স্থানীয় সরকারের স্বচ্ছতা–নিরীক্ষা জোরদার করার সুপারিশ দীর্ঘদিন ধরে উঠছে।
ওপেন কন্ট্রাক্টিং ও ই–জিপি–তে রিয়েল–টাইম ডেটা উন্মুক্ততা, যাতে বড় দরপত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ঠেকানো যায়।
হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা ও সম্পদঘোষণা–অডিটের নিয়মিতায়ন—রাজনৈতিক ও আমলাতন্ত্র উভয় স্তরে।
দুদকের তদন্ত–ক্ষমতা ও বাজেট স্বাধীনতা—আইনে যে জায়গায় ‘প্রসিডিউরাল পারমিশন’ প্রয়োজন হয়, তা পুনর্বিবেচনা।
শিক্ষা–সিলেবাসে নৈতিকতা ও সিভিক–এডুকেশন—বক্তার আহ্বানের সঙ্গে সুর মিলিয়েই, নৈতিকতা–কেন্দ্রিক সচেতনতা বাড়ানো।
ড. রেজাউল করিমের বক্তব্যে দুর্নীতিকে “না” বলার যে সামাজিক আহ্বান উঠেছে—তা ইতিবাচক; তবে CPI–এর ধারাবাহিক নিম্ন–স্কোর ইঙ্গিত দেয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছতা–প্রযুক্তি, ও নিরপেক্ষ আইনপ্রয়োগ—এই তিন চাকার গতি না বাড়ালে লক্ষ্যপূরণ সম্ভব নয়।
Dhaka Tribune (আর্কাইভ বিশ্লেষণ) — “Bangladesh’s 18 years on the Corruption Perceptions Index” (২০০১–২০০৫: টানা পাঁচ বছর সর্বনিম্ন স্থানে)।
Transparency International — CPI 2024 (বাংলাদেশ: স্কোর ২৩, অবস্থান ১৫১/১৮০)।
বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয় (bdlaws) — “দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪” (দুদক গঠনের আইনগত ভিত্তি)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |