| বঙ্গাব্দ

গাজায় ত্রাণ নেওয়ার পর শিশুকে গুলি করে হত্যা, ফাঁস করলেন সাবেক মার্কিন সেনা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-08-2025 ইং
  • 4442287 বার পঠিত
গাজায় ত্রাণ নেওয়ার পর শিশুকে গুলি করে হত্যা, ফাঁস করলেন সাবেক মার্কিন সেনা
ছবির ক্যাপশন: গাজায় ত্রাণ নেওয়ার পর শিশুকে গুলি করে হত্যা

গাজায় ত্রাণ নেওয়ার পর শিশুকে গুলি করে হত্যা: সাবেক মার্কিন সেনার হৃদয়বিদারক সাক্ষ্য

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন


“সেই শিশুটি আমার গাল ছুঁয়ে বলেছিল, থ্যাংক ইউ”—এরপরই গুলিতে ঝাঁঝরা

গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ত্রাণ নেওয়ার কয়েক মিনিট পরই ১২ কিলোমিটার হেঁটে আসা এক শিশু গুলিতে নিহত হয়—ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা অ্যান্থনি অ্যাগুইলার এই হৃদয়বিদারক তথ্য প্রকাশ করেছেন।

পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে অ্যাগুইলা জানান—

“ছেলেটির নাম ছিল আমির। খালি পায়ে, ছেঁড়া কাপড় পড়ে সে ১২ কিলোমিটার হেঁটে এসেছিল আমাদের ত্রাণকেন্দ্রে। খাবার পেয়ে সে আমার গাল ছুঁয়ে ‘থ্যাংক ইউ’ বলে চলে যায়। এরপরই শুরু হয় গুলি, টিয়ার গ্যাস, স্টান গ্রেনেড। সেই ছেলেটি আর বেঁচে ফিরতে পারেনি।”

গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের বিতর্কিত ভূমিকা

সাবেক এই মার্কিন সেনা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (GHF)-এর কর্মকর্তা ছিলেন।
ফাউন্ডেশনটি গাজায় মানবিক সহায়তা বিতরণের নামে কার্যক্রম চালালেও অভিযোগ রয়েছে—এই ত্রাণ কার্যক্রমে ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ও নজরদারি সরাসরি যুক্ত

২০২৫ সালের মে মাসে গঠিত এই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই বহুবার ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রেই ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালিয়েছে
প্রতিবেদনে বলা হয়—ফাউন্ডেশন কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণ নিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন

শিশু আমিরের গল্প গাজার প্রতিটি শিশুর প্রতিচ্ছবি

অ্যাগুইলার বলেন—

“আমি একজন সেনা ছিলাম, বহু যুদ্ধ দেখেছি। কিন্তু ওই দিনের মতো মন ভেঙে যেতে আমি আগে কখনো দেখিনি। একটি শিশু, যে খাবার পেয়ে খুশিতে আমার গাল ছুঁয়ে চুমু দিয়েছিল, কিছুক্ষণ পরই সে গুলিতে রক্তাক্ত লাশ হয়ে মাটিতে পড়ে থাকে—এটা কোনো যুদ্ধ নয়, এটা বর্বরতা।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও মানবাধিকার প্রশ্ন

এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—
মানবিক সহায়তার নামে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নজরদারি ও সহিংসতা চালানোর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কি চলছেই?

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সাবেক উপদেষ্টা রিচার্ড ফক বলেন—

“এই ধরনের ত্রাণ সহায়তা যদি নিরস্ত্র শিশুদের জন্য মৃত্যু ডেকে আনে, তবে তা মানবিক নয়—বরং যুদ্ধের নতুন রূপ।”

প্রেক্ষাপট: গাজার চলমান সংকট ও শিশুদের অবস্থা

বিষয়তথ্য
চলমান যুদ্ধকাল২০২৩ সাল থেকে
নিহত শিশু (ইউএনICEF অনুসারে)প্রায় ১৩ হাজার +
আক্রান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান৭০% এর বেশি
শিশু অপুষ্টিভয়াবহ মাত্রায় বৃদ্ধি
মানবিক সহায়তাপ্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত, সেনা হস্তক্ষেপে রক্তাক্ত
মানবতা কোথায়?

আমিরদের মতো শিশুদের মৃত্যু শুধু সংখ্যার হিসাব নয়—
এটি অভিযোগ নয়, প্রমাণ যে গাজায় শিশুদের বেঁচে থাকার কোনো ন্যূনতম নিরাপত্তাও অবশিষ্ট নেই।

যেখানে এক বাটি খাবার পেয়ে কৃতজ্ঞতাসূচক চুমু দিতে আসা একটি শিশু সেই মুহূর্তেই গুলির শিকার হয়, সেখানে আর কত যুক্তি দিয়ে মানবিকতার বুলি শোনা যায়?

সূত্র

  1. মিডল ইস্ট আই (৩১ জুলাই ২০২৫)

  2. গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন সাবেক কর্মকর্তা অ্যান্থনি অ্যাগুইলার – পডকাস্ট সাক্ষাৎকার

  3. UNICEF, July 2025 Gaza Crisis Report

  4. Human Rights Watch ও Al-Mezan Center for Human Rights, Gaza

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency