মুক্ত গণমাধ্যম ও আগামীর বাংলাদেশ: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সাংবাদিকতার চড়াই-উতরাই ও বিএনপির প্রতিশ্রুতি
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের ইতিহাসে গণমাধ্যম সবসময়ই গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৫০-এর দশকে সংবাদপত্রের যে লড়াই শুরু হয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে তা এক নতুন সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। গত রোববার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় দেশের শীর্ষ সম্পাদক ও সাংবাদিকরা গণমাধ্যমের নিরাপত্তা এবং প্রশ্ন করার স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে বিএনপি নেতারা আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণে প্রস্তুত।
১৯৫০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিল অত্যন্ত সীমিত। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের সময় সংবাদমাধ্যমগুলো দমন-পীড়নের শিকার হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সংবাদপত্রের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং ১৯৭৫ সালের জুন মাসে মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে বাকি সব বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে গণমাধ্যমের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায় রচিত হয়। নব্বইয়ের দশকের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলেও প্রতিটি সরকারই সমালোচনামূলক সাংবাদিকতাকে সন্দেহের চোখে দেখেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশে এক বড় পরিবর্তন এলেও ‘মবতন্ত্র’ (Mobocracy) গণমাধ্যমের জন্য নতুন ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ (স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপি): তিনি পত্রিকা অফিসে হামলাকে ‘লজ্জার’ বলে অভিহিত করেন এবং সরকারের গোয়েন্দা ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, "আমরা মবক্রেসি নয়, ডেমোক্রেসি চেয়েছিলাম।"
মাহফুজ আনাম (সম্পাদক, দ্য ডেইলি স্টার): তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে কোনো সরকারই প্রকৃত সমালোচনা গ্রহণ করেনি। তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মেরামতের আহ্বান জানান।
মতিউর রহমান (সম্পাদক, প্রথম আলো): তিনি রাজনৈতিক শূন্যতাকে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে জাতীয় ঐক্য ও সমঝোতার ওপর জোর দেন। তিনি সতর্ক করেন যে, জয়ী হতে যাওয়া দলের আচরণ ও বিনয় হওয়া উচিত অনেক বেশি।
মতবিনিময় সভায় যমুনার সিইও ফাহিম আহমেদ প্রশ্ন তোলেন যে, গণমাধ্যমের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিএনপি কেন মাঠ পর্যায়ে আরও জোরালো ভূমিকা রাখেনি। যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন বাংলাদেশে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ট্যাগ দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ হবে এবং সাংবাদিকরা নিরাপদে লিখতে পারবেন।
শফিক রেহমান তার বক্তব্যে তারেক রহমানের ফেরার দিন (২৫ ডিসেম্বর) কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে সতর্ক করেন। অন্যদিকে নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজনে ১০টি সিট হারালেও বিএনপির উচিত হবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আহমেদ পাভেল ফ্যাসিবাদের অন্ধকার সময় পেরিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করেন। তারা জানান, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেবল কাগুজে নয়, বাস্তবে রূপ পাবে।
১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সালের এই সুদীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশের গণমাধ্যম অনেক রক্ত ও ত্যাগের সাক্ষী। ২০২৫ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সম্পাদকদের দাবি এবং বিএনপির প্রতিশ্রুতি—এই দুইয়ের সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ।
সুত্রসমূহ: ১. যুগান্তর অনলাইন ও মানবজমিন (সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভার কার্যবিবরণী)। ২. ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো (গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও মবতন্ত্র সংক্রান্ত বিশেষ রিপোর্ট)। ৩. বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাস ও বিবর্তন: ১৯৫০-২০২৫ (ঐতিহাসিক আর্কাইভ ও গুগল এনালাইসিস)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |