ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামী আমিরের সৌজন্য বৈঠক: বাংলাদেশ-ভুটান বন্ধুত্ব নিয়ে নতুন প্রসঙ্গ
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকায় সফররত Tshering Tobgay (ভুটানের প্রধানমন্ত্রী) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর আমির ডা. শফিকুর রহমান-এর মধ্যে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগস্থ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর মাহমুদুল হাসান।
তথ্যসূত্র অনুযায়ী, এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ধর্ম-সংস্কৃতি, মুসলিম সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সম্পর্ক ও দক্ষিণ এশিয়ার সংকটপূর্ণ ভূ–রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মত রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে ভুটানের সরকারের সমঝোতা ও বন্ধুত্বের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গা খোলা হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক ভাবনায়, ভুটান–বাংলাদেশ সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগে কাজ করার একটি নতুন দৃষ্টান্ত গড়ে তোলার ইঙ্গিত রয়েছে।
এই ধরনের বৈঠক একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়—বাংলাদেশ ও অঞ্চলে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসের ধারায় এটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত রয়েছে। নিচে মূল কিছু পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হলো।
১৯৫০–১৯৭১: ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন। এ সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও বিদেশনৈতিক অবস্থান গড়েছে।
১৯৭৫–১৯৯০: সামরিক শাসন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও গণঅভ্যুত্থান। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশ ও মত রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা আলোচিত হয়েছে।
১৯৯১–২০০৮: বহুদলীয় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর পুনরুজ্জীবন। রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়তে শুরু করে।
২০০৯–২০২৩: যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার ও উন্নয়ন নীতির আলোচনা। ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড, বৈদেশিক সম্পর্ক ও সংগঠনগুলোর ভূমিকা নতুন মাত্রায় উঠে আসে।
২০২৪–২০২৫: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ–রাজনৈতিক পরিবর্তন, ভুটানসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন ও নতুন রাজনৈতিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সক্রিয় হচ্ছে।
এই বৈঠক এমন এক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়েছে যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে—সংগঠনগুলোর আন্তর্জাতিক সংযুক্তি, ধর্ম ও রাজনীতির মিল ও দ্বিমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী যেমন দৃষ্টিভঙ্গায় শক্তিশালী হচ্ছে, ঠিক তেমনই তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একধরনের কার্যকর অংশ হতে চায়—ভুটানের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সৌহার্দ ও সহযোগিতা’র বার্তা দেওয়া এটি সেই চেষ্টা বলেই দেখা যেতে পারে।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মত রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে এই ধরনের বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই পক্ষের জন্যই সঙ্কেতমূলক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিদেশসক্ষমতা ও ভুটানের দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থান শক্ত করার দিক থেকে।
আগামী সময়ে এই ধরনের বৈঠকে বাস্তব অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক যৌথ উদ্যোগ তৈরির দিকে নজর দেওয়া হবে কি না—তাও গুরুত্বপূর্ণ।
১) “Bhutanese PM pays courtesy call on President Shahabuddin” – Dhaka Tribune, ২৩ নভেম্বর ২০২৫।
২) “Bhutan PM Tobgay leaves Dhaka after 3-day visit” – bdnews24.com, ২৪ নভেম্বর ২০২৫।
৩) “Bhutanese PM arrives in Dhaka for two-day visit” – Economic Times, নভেম্বর ২০২৫।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |