| বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে TVET খাতে এডিবির ১৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা: কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-08-2025 ইং
  • 4441534 বার পঠিত
বাংলাদেশে TVET খাতে এডিবির ১৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা: কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত
ছবির ক্যাপশন: ১৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা: কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত

কারিগরি শিক্ষায় ১৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ: এডিবির সহযোগিতায় বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: এডিবি, ইআরডি, কালের কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালা (২০২৩)

টেকনিক্যাল শিক্ষা ও কর্মসংস্থান উন্নয়নে নতুন যুগের সূচনা

বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) এর মধ্যে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET) ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তোলা।

চুক্তিটি স্বাক্ষর হয় আজ রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে। এতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ERD) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং ADB-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং স্বাক্ষর করেন।

কী থাকবে এডিবি–সহায়িত এই কর্মসূচিতে?

ADB জানায়, এই কর্মসূচিটি বিশেষভাবে পাঁচটি প্রধান প্রযুক্তি খাতে দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করবে:

যান্ত্রিক প্রযুক্তি
ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল প্রযুক্তি
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)
নাগরিক (সিভিল) প্রকৌশল
খাদ্য ও কৃষি প্রযুক্তি

ADB-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং বলেন,

“বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এই প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। এটি শুধু টেকনিক্যাল শিক্ষার মান বাড়াবে না, বরং দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধেও এক শক্তিশালী উদ্যোগ হবে।”

উন্নয়ন হবে শিক্ষকদেরও: ঢাকার বাইরের অঞ্চলে জোর

চলতি কর্মসূচির মাধ্যমে ১০ হাজারেরও বেশি নতুন ও বিদ্যমান টিভিইটি শিক্ষক উন্নত প্রশিক্ষণের আওতায় আসবেন। এর প্রভাবে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হবেন।

উদ্দেশ্য:

  • শিক্ষক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ব্যবস্থাপনা ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উন্নয়ন

  • উদীয়মান প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে শিক্ষাদান সক্ষমতা বাড়ানো

  • ঢাকার বাইরে সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী-দের অগ্রাধিকার

১৯৫০ থেকে ২০২৫: দক্ষতা উন্নয়ন নীতির ধারাবাহিকতা

সময়কালগুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক
১৯৫৪প্রথমবার ভোকেশনাল ট্রেনিং স্কুল চালু হয় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে
১৯৭৮জাতীয় কারিগরি বোর্ড গঠিত
১৯৯১গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর বেসরকারি টিভিইটি খাতকে উৎসাহ দেয়া শুরু
২০০৬স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের সূচনা
২০১১প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপে দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প শুরু
২০১৯“আমার গ্রাম আমার শহর” কর্মসূচিতে TVET যুক্ত হয়
২০২৩জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালা গৃহীত হয়, টার্গেট করা হয় ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০% যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা
২০২৫ADB–সহায়িত সর্ববৃহৎ শিক্ষক উন্নয়ন প্রকল্প চালু হয়
বিশ্লেষণ: দক্ষতা মানেই সমৃদ্ধি, কিন্তু চ্যালেঞ্জও আছে

বাংলাদেশে ১৫–৩৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ৬ কোটির বেশি। তাদের বড় অংশ এখনও কর্মহীন বা অদক্ষ। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২২ লাখ যুবক শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন, কিন্তু অধিকাংশের নেই প্রয়োজনীয় স্কিল।

বিশ্লেষকদের মতে, TVET খাতের মূল চ্যালেঞ্জগুলো:

  • শিক্ষার মানে ঘাটতি

  • শহর-গ্রামের বৈষম্য

  • শিক্ষক প্রশিক্ষণে অনিয়ম

  • প্রাতিষ্ঠানিক সংযুক্তিতে দুর্বলতা

  • বেসরকারি শিল্প খাতের সঙ্গে সংযোগহীনতা

তবে এডিবির এই বিনিয়োগ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা হলে আগামী ৫ বছরে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পখাত, কৃষি প্রযুক্তি, এবং স্মার্ট সিটিজেন গঠনে বিশাল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাসঙ্গিকতা ২০৪১ লক্ষ্যের সঙ্গে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১ পরিকল্পনার চারটি স্তম্ভ:

  1. স্মার্ট নাগরিক

  2. স্মার্ট অর্থনীতি

  3. স্মার্ট সরকার

  4. স্মার্ট সমাজ

এই টিভিইটি প্রকল্প প্রত্যেক স্তম্ভে অবদান রাখবে বলে দাবি করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

উপসংহারহীন অগ্রযাত্রা: স্কিলড নেশনই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ

কারিগরি শিক্ষা এখন আর বিকল্প নয়; বরং এটি জাতীয় প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি। যে দেশ দক্ষ, সেই দেশই হবে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার যোগ্য।

ADB–বাংলাদেশ যৌথ এই উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক মুক্তিরও এক বিকল্প পথচলা।

সূত্র:

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency