| বঙ্গাব্দ

১৭ বছর পর দেশে ফিরে মায়ের পাশে তারেক রহমান: ভোটার নিবন্ধন ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার বিস্তারিত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 27-12-2025 ইং
  • 1967272 বার পঠিত
১৭ বছর পর দেশে ফিরে মায়ের পাশে তারেক রহমান: ভোটার নিবন্ধন ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার বিস্তারিত
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমান

মায়ের শয্যাপাশে তারেক রহমান: ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে এক আবেগঘন পুনর্মিলন ও আগামীর বাংলাদেশ

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে সব রাজনৈতিক কর্মসূচির ঊর্ধ্বে বর্তমানে তার কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়ার সান্নিধ্য। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে ফেরার পর এটি ছিল মায়ের সঙ্গে তার দ্বিতীয় সাক্ষাৎ।

শনিবারের ব্যস্ত সূচি: জাতীয় কবির মাজার থেকে ভোটার নিবন্ধন

শনিবার দিনভর নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন তারেক রহমান। সকালে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন। এরপর এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে গিয়ে নিজের নাম ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৭ বছর পর ভোটার তালিকায় তার এই অন্তর্ভুক্তি কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের আগামীর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তার সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি শক্তিশালী বার্তা।

ইসি কার্যালয় থেকে তিনি বনানী কবরস্থানে গিয়ে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো এবং শ্বশুর মাহবুব আলী খানের কবর জিয়ারত করেন। বিকেলে ধানমন্ডিতে শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুর সঙ্গে দেখা করার পর সরাসরি চলে যান এভারকেয়ার হাসপাতালে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ — রাজনীতির দীর্ঘ পরিক্রমা

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম ১৯৫০-এর দশকেই শিকড় গেড়েছিল। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ধাপে এদেশের মানুষ আত্মত্যাগ করেছে।

  • ১৯৫০-১৯৭১: মুসলিম লীগের একনায়কত্ব বনাম বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক গণরায় এবং ১৯৭১-এর সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

  • ১৯৭৫-১৯৯০: পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা। পরবর্তীতে ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদের পতন এবং ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

  • ২০০৭ (১/১১) ও নির্বাসন: ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারেক রহমান গ্রেফতার হন এবং ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান। এরপর থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর তাকে বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে।

  • ২০২৪-২০২৫: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের আওয়ামী শাসনের অবসান ঘটে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারেক রহমানের বীরোচিত প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নিরাপত্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি

এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অবস্থান ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), বিজিবি এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ত্রিস্তরী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়াও বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী সিএসএফ-এর সদস্যরাও সেখানে তৎপর রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের এই শেষলগ্নে তারেক রহমানের উপস্থিতি এবং খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ—উভয়ই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমীকরণকে নতুন রূপ দিচ্ছে। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে ১৯৫০-এর দশকে লড়াই শুরু হয়েছিল, ২০২৫-এর এই সংস্কারমুখী বাংলাদেশ সেই স্বপ্নেরই একটি আধুনিক প্রতিফলন হতে যাচ্ছে।


সূত্র: ১. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ ভোটার নিবন্ধন তথ্য (ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বিএনপি মিডিয়া সেল ও এভারকেয়ার হাসপাতাল মেডিকেল বোর্ড বুলেটিন। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯৫২-২০২৪ (জাতীয় আর্কাইভ ও সমসাময়িক সংবাদপত্র)।


প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency