প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের ডিজিটাল বিপ্লবের আড়ালে গত দেড় দশকে আইসিটি বিভাগে যে পর্বতপ্রমাণ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, তার দালিলিক প্রমাণ এবার জনসাধারণের সামনে এলো। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বহুল প্রতীক্ষিত ‘আইসিটি শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে এই শ্বেতপত্র প্রকাশকে গত ৫ দশকের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লড়াইয়ে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, বিগত সরকারের সময়ে আইসিটি খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা তদন্তে গঠিত টাস্কফোর্স দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার নামে বিভিন্ন প্রকল্পের ডিপিপি (DPP), অডিট রিপোর্ট এবং বৈদেশিক চুক্তিতে ভয়াবহ প্রশাসনিক দুর্বলতা ও কাঠামোগত সমস্যা ছিল। বিশেষ করে হাই-টেক পার্ক, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প এবং জাতীয় ডেটা সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির বিস্তারিত চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিবেদনে বেশ কিছু কঠোর সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলার প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত বিবর্তন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ আমলে টেলিগ্রাফ ও ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অঞ্চলে আধুনিক যোগাযোগের সূচনা ঘটে।
১৯৭১-১৯৯০: স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (ITU) সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত যাত্রার ভিত্তি স্থাপন করেন। পরবর্তী দুই দশকে এনালগ থেকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশের প্রাথমিক চেষ্টা শুরু হয়।
২০০৯-২০২৪: ২০০৯ সালে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্প ঘোষণার পর থেকে আইসিটি খাতে বড় বরাদ্দ শুরু হয়। তবে অভিযোগ ওঠে যে, শেখ হাসিনা সরকারের এই দীর্ঘ শাসনামলে প্রযুক্তির উন্নয়নের চেয়ে রাজনৈতিক অনুগতদের সুবিধা দেওয়া এবং নজরদারির যন্ত্রপাতি কেনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে আইসিটি খাতের জঞ্জাল সরাতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। আজ ২০২৬ সালের শুরুতে সেই টাস্কফোর্সের শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে এক স্বচ্ছ প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের পথ তৈরি হলো।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে এই শ্বেতপত্র প্রকাশ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আশা করছে, এই শ্বেতপত্র কেবল বিগত সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া নয়, বরং আগামী নির্বাচিত সরকারের জন্য আইসিটি বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণে একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
প্রশাসন মনে করছে, এই দলিলে উল্লেখিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা ঔপনিবেশিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে ২০২৬ সালের বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে একটি স্বচ্ছ ডিজিটাল রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
সূত্র: ১. ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (ictd.gov.bd) অফিসিয়াল প্রেস রিলিজ। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল আর্কাইভ (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)। ৩. আইসিটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন টাস্কফোর্সের চূড়ান্ত প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |