শহীদ মিনারে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘এনপিএ’-র আত্মপ্রকাশ: পরিবর্তনের নতুন বার্তা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আজ আরও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেল ৪টায় এই পবিত্র প্রাঙ্গণ থেকে ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ (এনপিএ) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে যখন নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবি উঠছে, ঠিক সেই মুহূর্তে তরুণ ও অধিকারকর্মীদের এই উদ্যোগ দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।
বাংলার রাজনৈতিক সংগ্রাম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি লড়াইয়ের মূলে ছিল সাম্য ও মানবিক মর্যাদা। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যে স্বাধিকার আন্দোলন দানা বেঁধেছিল, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনের পতনের পর ২০২৫ সাল জুড়ে চলেছে রাষ্ট্রের সংস্কার কাজ। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই প্রেক্ষাপটেই এনপিএ-র মতো প্ল্যাটফর্মের আবির্ভাব ঘটেছে, যারা প্রথাগত রাজনীতির বাইরে ‘জবাবদিহিমূলক’ ব্যবস্থার কথা বলছে।
নতুন এই প্ল্যাটফর্মটি পাঁচটি মূলনীতি এবং সাতটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। তাদের মূলমন্ত্র নির্ধারণ করা হয়েছে—গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ সুরক্ষা।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্মের অন্যতম উদ্যোক্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মীর হুযাইফা আল মামদূহ জানান, এনপিএ-র ১০১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কেন্দ্রীয় কাউন্সিল গঠিত হবে। তিনি ইতিমধ্যে ৯৯ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করেছেন এবং বাকি নামগুলো দ্রুতই প্রকাশ করা হবে। এই কাউন্সিলে ঠাঁই পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা একদল তরুণ নেতৃত্ব ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ।
শহীদ মিনারের এই অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ফেরদৌস আরা রুমি, তুহিন খান এবং নাজিফা জান্নাত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত তার বক্তব্যে বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ২৮টির বেশি রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। আমরা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং মানুষের মৌলিক অধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষার নিশ্চয়তা চাই।" এই প্ল্যাটফর্মে আরও যুক্ত আছেন ঢাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি মেঘমল্লার বসু, অনিক রায়, অলীক মৃ, তাসলিমা মিজি এবং অধিকার কর্মী ফেরদৌস আরা রুমি। তাদের দাবি, বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোর সংস্কার ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়।
২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে যেখানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট এবং ইসলামী আন্দোলন বড় ধরনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে, সেখানে এনপিএ-র মতো প্ল্যাটফর্মগুলো নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কতটুকু আকর্ষণ করতে পারবে, তা এখন দেখার বিষয়। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এ দেশের রাজনৈতিক পরিক্রমায় তরুণেরাই বরাবরই দিক-পরিবর্তনকারী ভূমিকা পালন করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনপিএ কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি ২০২৪-এর বিপ্লবের চেতনা ধরে রাখার একটি প্রচেষ্টা। তবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হলে তাদের তৃণমূল পর্যায়ে কতটা সুসংগঠিত হতে পারে, সেটিই হবে ২০২৬-এর বড় চ্যালেঞ্জ।
তথ্যসূত্র: ১. এনপিএ-র আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খসড়া সূচি। ৩. গুগল নিউজ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |