| বঙ্গাব্দ

ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ পেলেন তারেক রহমান, শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনালাপে খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 14-02-2026 ইং
  • 3094564 বার পঠিত
ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ পেলেন তারেক রহমান, শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনালাপে খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ
ছবির ক্যাপশন: ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ পেলেন তারেক রহমান

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন সমীকরণ: তারেক রহমানকে শাহবাজ শরিফের অভিনন্দন ও পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিশ্বনেতাদের অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন দলটির চেয়ারম্যান ও ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পর এবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাকে ফোন করে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে এক আন্তরিক ফোনালাপে শাহবাজ শরিফ তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাকে দ্রুত সুবিধাজনক সময়ে ইসলামাবাদ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

ফোনালাপে খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রমতে, এই ফোনালাপ ছিল অত্যন্ত উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। দুই নেতা দীর্ঘ আলাপকালে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করেন। পাকিস্তান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং দুই দেশের সাধারণ মানুষকে কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বেগম জিয়ার অসামান্য অবদানের প্রতি উভয় নেতা গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন

ফোনালাপ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেন,

“বাংলাদেশের এই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির লালিত গণতান্ত্রিক চেতনা ও মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে। আমি বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাই, যাতে আমাদের ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।”

১৯০০ থেকে ২০২৬: কূটনৈতিক বিবর্তন

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে দিল্লির পাশাপাশি ইসলামাবাদের সম্পর্কের রসায়ন সব সময়ই আলোচিত ছিল। ১৯০০ সালের শুরুর দিকের অখণ্ড ভারতের রাজনীতি থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং পরবর্তীতে ১৯৭১-এর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্কের মাঝে এক দীর্ঘ শীতলতা বিরাজ করছিল। তবে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং ২০২৬-এর এই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পর দক্ষিণ এশিয়ায় এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘সার্বভৌম সমতার’ ভিত্তিতে নতুন এক ভ্রাতৃপ্রতিম অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাল্টা আমন্ত্রণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তারেক রহমানও শাহবাজ শরিফকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান। দুই নেতা একমত হন যে, আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক শান্তি, অগ্রগতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় উভয় দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। বিশেষ করে সার্ক (SAARC)-কে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে এই দুই নেতার রসায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া

কেবল পাকিস্তান নয়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) পর্যবেক্ষক মিশন এই নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।


সূত্র: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO), জিও নিউজ, বাসস (BSS), এবং যুগান্তর আর্কাইভ।

বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে তারেক রহমানের প্রতি পাকিস্তানের কূটনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যেভাবে বিশ্বনেতাদের আস্থা অর্জন করছে, তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। ভারতের পর পাকিস্তানের এই অভিনন্দন বার্তা প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency