ব্যানার পুড়িয়ে জনস্রোত থামানো যাবে না: দেবিদ্বারে হাসনাত আবদুল্লাহর হুঁশিয়ারি
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেবিদ্বার (কুমিল্লা): ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী চেতনা থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ‘জুলাই বিপ্লব’—বাঙালির প্রতিটি সংগ্রামই ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অদম্য লড়াই। সেই সংগ্রামেরই অন্যতম লড়াকু মুখ, ২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক এবং বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এখন দেবিদ্বারের নির্বাচনী ময়দানে এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সন্ত্রাসীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ভয় দেখিয়ে বা ব্যানার পুড়িয়ে দেবিদ্বারের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনকে থামানো সম্ভব নয়।"
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া, ব্যানার পোড়ানো এবং নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। এর প্রতিবাদে হাসনাত বলেন, "জনগণের সঙ্গে যে জনসমর্থনের স্রোত তৈরি হয়েছে, তা ব্যানারে আগুন লাগিয়ে বা পোস্টার ছিঁড়ে বন্ধ করা যাবে না। কর্মীদের ওপর হামলা বা রাজনৈতিক কার্যক্রম দমানোর চেষ্টা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিপন্থী। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের বিচার একদিন হবেই।"
তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিয়ে ইনসাফ কায়েম করবেন। এবার কেন্দ্র দখল করতে আসলে আমরা প্রতিহত করব। আমরা টাকার কাছে বিক্রি হব না।"
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ পূর্ববর্তী স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আজকের সংস্কারমুখী রাজনীতি—সবখানেই কুমিল্লার দেবিদ্বার ছিল আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এই অঞ্চলের মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। গত ৭৭ বছরের (পাকিস্তান আমলের ২৩ ও বাংলাদেশের ৫৪ বছর) ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, যখনই মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই তারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে ধরা হচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কারের চূড়ান্ত পরীক্ষা। দেবিদ্বারে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের পর এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে দেবিদ্বারকে মাদক ও চাঁদাবাজ মুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী নেতারা মাদক সম্রাটদের আশ্রয় দিয়ে আসছিল। আমি নির্বাচিত হলে এদের কোনো ঠাঁই হবে না। আপনাদের সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ দেবিদ্বার গড়তে আমি লড়াই করে যাব।"
উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ, উপজেলা জামায়াতের সভাপতি অধ্যাপক শহিদুল ইসলামসহ এনসিপি ও জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য যে, এই আসনে জামায়াত সমর্থিত জোটের পক্ষ থেকে হাসনাত আবদুল্লাহকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হয়েছে।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা থেকে ২০২৬ সালের ‘নতুন বাংলাদেশ’—সবখানেই মূল দাবি ছিল ভোটাধিকার ও সুশাসন। হাসনাত আবদুল্লাহর মতো তরুণ নেতৃত্বের উত্থান প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন প্রচলিত অপরাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধই নির্ধারণ করবে দেবিদ্বারের আগামী পাঁচ বছরের ভাগ্য।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, বাসস এবং এনসিপি নির্বাচনী সেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |