চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
২৮ জুলাই, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে, বিগত নির্বাচনগুলোতে সরাসরি ভোট চুরি হলেও ২০২৬ সালের নির্বাচনে এসে ফলাফলের চরম হেরফের ও ফল চুরি করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভোট চুরির নতুন রূপ: হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আগে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন উপায়ে ভোট চুরি ও ইঞ্জিনিয়ারিং করত, আর বর্তমান বিএনপি সরকার এসে ফলাফলের পর সরাসরি ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফল চুরি করছে।
গণভোট ও ব্যাংক-বিশ্ববিদ্যালয় দখল: ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিলেও নির্বাচনের পর তা নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় দখল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপি নেতারা।
পুলিশ প্রশাসনকে বার্তা: পুলিশকে কোনো নির্দিষ্ট দলের তাঁবেদারি না করে দেশের ১৬ কোটি সাধারণ মানুষের হয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এমপি হাসনাত।
উচ্চকক্ষ ও পিআর সিস্টেম: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (PR) ভিত্তিতে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের জোর দাবি জানান এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি।
বিগত নির্বাচনগুলোর ইতিহাস ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন:
এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ:
"আমরা দেখেছি ২০১৪ সালে বিনা ভোটে নির্বাচন হয়েছে, ২০১৮ সালে মিডনাইট ইলেকশনে মরা মানুষ উঠে এসে ভোট দিয়েছে, ২০২৪ সালেও প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনেও ভোট চুরি থেমে থাকেনি; তা হয়েছে ফলাফলের পরে। আগে আওয়ামী লীগ সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট নিত, আর এখন বিএনপি সরকার ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করেছে।"
চুয়াডাঙ্গা এনসিপির পথসভার মূল দাবি ও বক্তব্যসমূহ:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • গণভোটের রায় বাস্তবায়ন : ৭০% জনগণের 'হ্যাঁ' ভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করা। │
│ • দলীয়করণ বন্ধ : ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় দখল বন্ধ করে নিরপেক্ষতা আনা।│
│ • নির্বাচন কমিশন সংস্কার : ইসিতে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার রোধ। │
│ • পিআর (PR) সিস্টেম : সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অভ্যুত্থানের পর যে পুলিশ সংস্কারের আলাপ তোলা হয়েছিল, নির্বাচনের পর বিএনপি তা বাদ দিয়ে পুলিশ ভাইদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, "আপনারা কোনো রাজনৈতিক দলের নন, আপনারা ১৬ কোটি মানুষের। আর কারো তাঁবেদার হবেন না।"
পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি। তিনি অভিযোগ করেন যে, আগামী নির্বাচনকে নিজেদের সুবিধামতো প্রভাবিত করতে ইসি বা নির্বাচন কমিশনে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি সরকারের কোনো প্রকার কালক্ষেপণ ছাড়া গণভোটের রায় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা কার্যকর করার দাবি জানান।
দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিজয়ের পর জনগণের অভিপ্রায়ের তোয়াক্কা না করে সব ক্ষেত্রে পুনরায় নজিরবিহীন দলীয়করণের চর্চা চালানো হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শীর্ষ এনসিপি নেতৃত্ব:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • সভাপতি : খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব (আহ্বায়ক, চুয়াডাঙ্গা) │
│ • পরিচালনা : আলমগীর হোসেন ও মো. আলী রুশদী মজনু │
│ • প্রধান অতিথি : আখতার হোসেন এমপি (কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব) │
│ • বিশেষ অতিথিবৃন্দ : ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, নুসরাত তাবাসসুম এমপি, │
│ আলী আহসান জুনায়েদ ও মোল্লা ফারুক এহসান। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র অবস্থান ও প্রভাব │
├─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┤
│ • বিরোধী শিবিরের চাপ: এনসিপি মাঠপর্যায়ে 'জুলাই জাগরণ' কর্মসূচির মাধ্যমে │
│ বর্তমান সরকারের নীতি ও ইসি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী অবস্থান সুসংগঠিত করছে।│
│ • গণভোট ও পিআর (PR) দাবি: সংখ্যানুপাতিক সংসদীয় ব্যবস্থার মতো নতুন রাজনৈতিক │
│ সংস্কারের দাবি তরুণ ভোটার ও সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাড়া ফেলছে। │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |