তারেক রহমান বিএনপির দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি নিলাম আওয়ামী লীগের: পটুয়াখালীতে নুরুল হক নুর
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
পটুয়াখালী: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিটি বাঁক—১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—সবখানেই তরুণ নেতৃত্বের সাহসী উচ্চারণ নতুন দিশা দেখিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, "তারেক রহমান যেহেতু বিএনপির দায়িত্ব দিয়েছেন, আমিও এখন আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে নিলাম।" তার এই বক্তব্য পটুয়াখালীর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
নুরুল হক নুর তার বক্তব্যে দাবি করেন, পটুয়াখালী-৩ আসনের সাধারণ ভোটার, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এখন গণঅধিকার পরিষদকে তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নেবে। তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও চরমোনাই—সব দলের সাধারণ মানুষ আগামী নির্বাচনে আমাকে ভোট দেবে। বিশেষ করে এই আসনে জয়-পরাজয়ে আওয়ামী লীগের ভোটাররাই প্রধান ভূমিকা রাখবে।"
তিনি আরও যোগ করেন, গত কয়েক দশকের প্রথাগত রাজনীতি থেকে মানুষ মুক্তি চায়। ২০২৪-এর পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষ এখন এমন নেতৃত্ব খুঁজছে যারা দল-মত নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।
বাংলার দক্ষিণ জনপদ পটুয়াখালীর রাজনীতি ১৯০০ সালের পর থেকেই ছিল অত্যন্ত সচেতন। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে এই অঞ্চলের মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। স্বাধীনতার পরবর্তী ৫৪ বছর ও তার আগের ২৩ বছর মিলিয়ে গত ৭৭ বছরে পটুয়াখালীর রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের আধিপত্য থাকলেও ২০২৬ সালের নির্বাচনে নুরুল হক নুরের মতো তরুণ নেতৃত্বের উত্থান এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ কিংবা ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধের মতো সন্ধিক্ষণগুলোতে তরুণরাই হাল ধরেছে। ২০২৬-এর নির্বাচনেও নুর সেই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে সব পক্ষের ভোট পাওয়ার যে দাবি করছেন, তা সফল হলে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আসতে পারে।
নির্বাচনী এই জনসভায় পটুয়াখালী ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গোলাম মস্তোফা, সদস্য সচিব মো. আলতাফ মাহমুদ, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির। এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে নুরের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
১৯৭১ সালে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, ২০২৬ সালের নির্বাচনে সেই আকাঙ্ক্ষা নতুন করে জেগে উঠেছে। নুরুল হক নুরের "আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেওয়া"র ঘোষণাটি মূলত একটি কৌশলগত রাজনৈতিক বার্তা, যার মাধ্যমে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করতে চাইছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের ভোটাররা নুরের এই সাহসী আহ্বানকে কতটা গ্রহণ করবেন, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো দেশ।
সূত্র: যুগান্তর, গণঅধিকার পরিষদ নির্বাচনী সেল এবং পটুয়াখালী প্রতিনিধি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |