প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২৫ (বৃহস্পতিবার): আগামীকাল ১৭ অক্টোবর যে জুলাই জাতীয় সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা, তার এক দিন আগেই অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দুইটি কারণে তারা সইয়ে যাচ্ছে না—(১) সনদের আইনি ভিত্তি এখনো স্পষ্ট নয়, (২) সনদপত্রের মূল টেক্সট এনসিপিকে দেখা হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে অংশগ্রহণকে দলটি “প্রতারণামূলক প্রক্রিয়া” হিসেবে দেখছে।
এনসিপি বলছে, গণ–অভ্যুত্থানের পর গত কয়েক মাস ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন–এর আলোচনায় তারা ছিল; কিন্তু আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না করে ও চূড়ান্ত টেক্সট প্রকাশ না করে শুধু “সই–অনুষ্ঠান” আয়োজন করলে তা জনগণকে **“অন্ধকারে রাখা”**র শামিল। নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, “শুরু থেকেই আমরা আইনি ভিত্তির দাবি করেছি। কয়েকটি দল বসে ঐকমত্যে পৌঁছানো মানেই কার্যকর প্রতিশ্রুতি নয়—দলেরা ক্ষমতায় গেলে বাস্তবায়ন নিশ্চিতে আইনি কাঠামো দরকার।”
এদিকে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন–সংশ্লিষ্ট কিছু নেতাও গতকাল রাতে ইঙ্গিত দেন—সই–পর্ব আগে, বাস্তবায়ন–সিদ্ধান্ত পরে—এমন একটি রূপরেখা নিয়েই ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠান হতে পারে; প্রায় ৩০টি দল/জোট নাম পাঠিয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে আখতার হোসেনসহ কয়েকজন নেতার ভাষ্য, বাস্তবায়নের রূপরেখা অস্পষ্ট থাকলে সইয়ের অর্জনও অনিশ্চিত থেকে যায়; তাই স্বাক্ষর করবে কি না—বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
আইনি ভিত্তি নেই: ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় থাকলেও চ্যার্টারকে আইনগত বাধ্যবাধকতা দেওয়ার কোনো সুস্পষ্ট প্রস্তাব/কমিটমেন্ট দেখেনি এনসিপি। “আইন না হলে সই কেবল আনুষ্ঠানিকতা।”
মূল টেক্সট গোপন: স্বাক্ষরের “মাস্টার কপি/চূড়ান্ত টেক্সট”–এর পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি তাদের দেখানো হয়নি—এ অভিযোগ তুলেছেন নাহিদ ইসলাম।
২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান বিক্ষোভ–আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তৎকালীন সরকারের পতন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সূচনা ঘটে। আন্দোলনের অন্যতম মুখ নাহিদ ইসলাম—যিনি পরবর্তীতে এনসিপি গঠন করেন—বহুবার বলেছেন, বিধিবদ্ধ সংস্কার ছাড়া “চ্যার্টার” কাগজে–কলমেই থেকে যাবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও জুলাই–উত্তর রাজনীতির অনিশ্চয়তা ও আইন–প্রাতিষ্ঠানিকতা প্রশ্নে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করেছে।
ঐকমত্য কমিশনের কর্মকর্তা মনির হায়দার–এর বক্তব্য অনুযায়ী, চ্যার্টারের তিনটি বিভাগ—(ক) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, (খ) সংস্কার প্রস্তাবের তালিকা, (গ) প্রতিশ্রুতির ঘোষণা—নিয়ে একটি মাস্টার কপি থাকবে; ১৭ অক্টোবর সইয়ের আয়োজন, পরে বাস্তবায়ন–সিদ্ধান্ত হবে—এমন ধারণাই প্রচলিত। এখানেই এনসিপির আপত্তি, কারণ বাস্তবায়ন নিশ্চিতের আইনি গ্যারান্টি আগে চান তারা।
স্বাক্ষর–অনুষ্ঠান প্রশ্নে অনিশ্চয়তা: এনসিপির অনুপস্থিতি রাজনৈতিক বৈধতা–ছবি ক্ষুণ্ণ করতে পারে; কয়েকটি বাম–দল ও গণফোরামও বয়কট/শর্তসাপেক্ষের ইঙ্গিত দিয়েছে—খবরে এমন আভাস আছে।
জনআস্থা–চ্যালেঞ্জ: অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতা–জবাবদিহি ইস্যুতে চাপ বাড়বে; “আইনি ভিত্তি–বিহীন চ্যার্টার” জনমনে প্রতীকী হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।
পথরেখা নির্ধারণ: এনসিপি বা অনুপস্থিত দলগুলোকে সঙ্গে না রেখে চ্যার্টার–স্বাক্ষর হলে, পরবর্তী বাস্তবায়ন ও নির্বাচন–রোডম্যাপেও টানাপোড়েন বাড়তে পারে—যা গত এক বছরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে মন্তব্য আকারে এসেছে।
“আইনি ভিত্তি ছাড়া সই কেবল আনুষ্ঠানিকতা” — নাহিদ ইসলাম, এনসিপি আহ্বায়ক।
“জনগণের কাছে অস্পষ্ট থাকলে লক্ষ্য অর্জন অনিশ্চিত” — আখতার হোসেন, সদস্য–সচিব, (বিবেচনায় রেখেছি—স্বাক্ষর করব কি না)। “সই আগে, বাস্তবায়ন পরে”—কমিশনের রূপরেখা—এ নিয়ে দলের ভিন্নমত রয়েছে; প্রায় ৩০টি দল/জোট নাম পাঠিয়েছে।
Dhaka Tribune: NCP calls July Charter signing mere formality without legal basis—১৬ অক্টোবর ২০২৫।
Prothom Alo (English): NCP not to join July Charter signing event without legal basis—১৬ অক্টোবর ২০২৫।
The Daily Star: NCP refuses to sign July Charter, cites lack of legal basis—১৬ অক্টোবর ২০২৫; এবং July Charter: Signing first, implementation decision later—১৫ অক্টোবর ২০২৫।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |