প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছেন এবং তারা নিজেদের সেফ এক্সিট (নিরাপদ প্রস্থান) পন্থা চিন্তা করছেন।
এই মন্তব্যের পরিক্লাপে, দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজশাহীর চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তাদের চরিত্রের শেষটা দেখতে চাই।”
সারজিস আলম বলেন:
“বিপ্লবটাকে ধারণ করে যেভাবে সংস্কার ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, আজ যদি সেই কথাগুলো সামনে আসে — তবে তাদের দায় নিতে হবে।”
“এত বড় অভ্যুত্থানের পর তারা যদি চুপিচুপি চলে যেতে চান, তাহলে তারা আর মানুষের কাছে আশ্রয় পাবে না।”
“নির্বাচন দিয়ে দিলে সম্মান বেঁচে যাবে — এই চিন্তা যেন তারা না করেন।”
তিনি আরও বলেন, উপদেষ্টাদের দায়িত্ব শুধু একটি নির্বাচন আয়োজন নয়—“যেসব অপকর্মের বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, সেগুলোর দায়িত্ব তাদের নিতে হবে।”
সারজিস আরও দাবি করেন, যদি কেউ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সসম্মানে প্রস্থান করতে চান, তাহলে তা “সুশীলভাবে” হওয়া উচিত — চুপিচুপি নয়।
নাহিদ ইসলাম তার সাক্ষাৎকারে বলেছেন:
“উপদেষ্টাদের অনেককেই বিশ্বাস করা ভুল ছিল — অনেকেই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ^্বাসঘাতকতা করেছে।”
“অনেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করেছে, এবং সেফ এক্সিটের কথা ভাবছে।”
“প্রসঙ্গত, ছাত্রনেতৃরা উপদেষ্টার আসনে যাওয়া ভুল ছিল কি না — আমি বলেছিলাম, সরকারে ছাত্রদের না থাকলে সরকার তিন মাসও টেকত না।”
নাম প্রকাশ না করা গেলেও, নাহিদ ঘোষণা করেছেন — “সময় এলে এদের নামও উন্মুক্ত করা হবে।”
এই অভিযোগ সম্পর্কে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, নাহিদকে ‘গাদ্দার উপদেষ্টাদের’ নাম প্রকাশ করতে হবে।
উপদেষ্টারা ও অবস্থান পরিবর্তন
একাধিক সংবাদ কেন্দ্রের তত্ত্ব অনুযায়ী, উপদেষ্টাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি আগে থেকেই রাজনৈতিক পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন—যা তাদের “সেফ এক্সিট” চিন্তা চালু করার কারণ হতে পারে।
নির্বাচন ও অভ্যুত্থানের যোগসূত্র
সারজিসের মতে, অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল সেই উত্তরদায়িত্ব বহন করা—নির্বাচন আয়োজন ও বিচার সংস্কার দৃষ্টিকোণ থেকে। যদি উপদেষ্টারা সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যান, তাহলে তাদের অনুশোচনা প্রাপ্য হবে।
নাম প্রকাশ ও রাজনৈতিক দাবি
রাশেদ খাঁনের দাবি অনুযায়ী, যারা ‘গাদ্দার উপদেষ্টা’ — তাদের নাম প্রকাশ করা হবে, এবং নাহিদকেই সেটি করতে বলা হবে।
এনসিপির রাজনৈতিক দন্ডবিধি ও পরিপার্শ্ব
সারজিস ও নাহিদ—দু’জনেই বলছেন, নতুন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া আচরণ ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য মান হবে না। তাদের বার্তা স্পষ্ট: যারাভাবেছিলেন “নির্বাচন দিয়েই ইস্যু শেষ” — তারা ভুল করছেন।
| ব্যক্তি | সময়/স্থান | বক্তব্য / মন্তব্য |
|---|---|---|
| নাহিদ ইসলাম | সম্প্রতি একাত্তর টিভি সাক্ষাৎকার | “উপদেষ্টারা বিভিন্ন দলকে লিয়াজোঁ করেছে, সেফ এক্সিট ভাবছে |
| সারজিস আলম | ৫ অক্টোবর, রাজশাহী | “চরিত্রের শেষটা দেখতে চাই” |
| সারজিস আলম | ৬ অক্টোবর, রাজশাহী | “নির্বাচন দিয়ে সম্মান বাঁচবে — ভাবনা ভুল” |
| রাশেদ খাঁন | ৬ অক্টোবর, প্রেস ক্লাব আলোচনা | নাহিদকে ‘গাদ্দার উপদেষ্টাদের’ নাম প্রকাশ করার দাবি |
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ ও সারজিস আলমের শক্ত প্রতিক্রিয়া — রাজনৈতিক নাটকের একটি নতুন অধ্যায় রচনা করেছে।
উভয় পক্ষই বলছেন, নির্বাচন শুধু একটি ক্রিয়া নয় — একটি মূল্যবাহী সিদ্ধান্তযেখানে দায়িত্ব ও বিশ্বাসের প্রতিফলন হওয়া উচিত। যদি “সেফ এক্সিট” বা নীরব প্রস্থান হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি বা উপদেষ্টা পরিপূর্ণভাবে রাজনৈতিকভাবে দায়পূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে — এবং জনগণ তাকে ক্ষমা করবে না, এমনটাই তাদের বার্তা।
Prothom Alo: নাহিদের সাক্ষাৎকার ও উপদেষ্টাদের বিষয়ে মন্তব্য
Samakal: “কয়েকজন উপদেষ্টা … সেফ এক্সিট চিন্তা করছে”
Jugantor: সারজিসের ‘চরিত্র শেষ দেখতে চাই’ মন্তব্য
Prothom Alo: সারজিসের নির্বাচন-উদ্ধার বক্তব্য
Ittefaq: রাশেদের দাবি ও নাহিদকে নাম প্রকাশের নির্দেশ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |