| বঙ্গাব্দ

তাবিজ-যাদুটোনা করে কাউকে বশ করা কি জায়েজ? শরিয়তের বিধান জানুন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-10-2026 ইং
  • 6417 বার পঠিত
তাবিজ-যাদুটোনা করে কাউকে বশ করা কি জায়েজ? শরিয়তের বিধান জানুন
ছবির ক্যাপশন: তাবিজ-যাদুটোনা করে কাউকে বশ করা কি জায়েজ

তাবিজ বা জাদুর মাধ্যমে কাউকে বশ করার বিধান এবং ইসলামের দৃষ্টিতে এর শাস্তি

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

কারও ওপর তাবিজ-কবচ, মন্ত্র কিংবা অন্য কোনো অপ্রাকৃতিক শক্তির প্রয়োগ করে তাকে নিজের বশে আনা, জোরপূর্বক নিজের প্রতি আকৃষ্ট করা কিংবা কারও স্বাভাবিক ইচ্ছাশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েজ, হারাম এবং কবিরা গুনাহ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনেক সময় সরাসরি যাদু বা সেহরের (কুফরি কালাম) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যা মানুষের স্বাধীন সত্তা ও স্বাভাবিক অনুভূতির ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।

ঢাকা উত্তরার জামিয়া ইমাম বুখারীর মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে এর ভয়াবহতা ও পরিণতি

এ ধরনের কাজের মাধ্যমে মানুষের ঈমান ও আকিদার ওপর মারাত্মক আঘাত আসে। බොහෝ ক্ষেত্রেই এসব অপকর্ম মানুষকে মিথ্যা, প্রতারণা, ধোঁকা এবং চূড়ান্তভাবে শিরকের দিকে পরিচালিত করে।

  • কবিরা গুনাহের শাস্তি: যারা এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত, তারা কবিরা গুনাহ করছেন। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কবিরা গুনাহের শাস্তি হলো—খাঁটি মনে তওবা না করলে কেবল একটি কবিরা গুনাহই একজন মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

  • সম্পর্কের বরকত নষ্ট: জোরপূর্বক বা তাবিজ-আমলের মাধ্যমে গড়ে ওঠা কোনো সম্পর্কের মাঝে কখনো প্রকৃত শান্তি, ভালোবাসা বা বরকত থাকে না। বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে বৈধ উপায়ে চলা এবং হালাল ও কল্যাণকর পথ অবলম্বন করলেই কেবল জীবনে প্রকৃত শান্তি ও স্বস্তি লাভ করা সম্ভব।

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রমাণ

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা যাদু এবং এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন। সুরা বাকারার ১০২ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে—

“অর্থাৎ, তারা (বনী ইসরাঈল) সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর শাসনামলে শয়তানগণ যা কিছু (মন্ত্র) পড়ত, তার পেছনে পড়ে গেল। সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) কোনো কুফর করেননি। অবশ্য শয়তানগণ মানুষকে যাদু শিক্ষা দিয়ে কুফরিতে লিপ্ত হয়েছিল... তথাপি তারা তাদের থেকে এমন জিনিস শিক্ষা করত, যা দ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত। তবে তারা তার মাধ্যমে আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কারও কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারত না...” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১০২)

তাফসিরে তাওযীহুল কুরআনের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যাদু-টোনা বা এ জাতীয় উপায়ে মানুষের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো কিংবা বশ করার প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এর কিছু পদ্ধতি সরাসরি কুফরি পর্যায়ের।

এছাড়া প্রখ্যাত ফিকহ গ্রন্থ ‘আহকামুল কুরআন লিত-তাহানভি’ (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫১-৫২)-তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:

মুসলিমের ক্ষতি করা, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো কিংবা তাবিজ বা জবরদস্তির মাধ্যমে কোনো মুসলিমকে বশ করে তার ভালোবাসা বা ঘৃণার ক্ষেত্রে ইচ্ছাশক্তি কেড়ে নেওয়া সম্পূর্ণ হারাম, কারণ এটি স্পষ্ট জুলুম।

করণীয়

যাঁরা এ ধরনের গর্হিত ও অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন, তাঁদের জন্য আবশ্যক হলো অবিলম্বে এই পাপ কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত হয়ে খাঁটি মনে ও কায়মনোবাক্যে আল্লাহ তাআলার দরবারে তওবা করা। পাশাপাশি কোনো বৈধ ও শরিয়তসম্মত উদ্দেশ্যে প্রয়োজন হলে তাবিজ-কবচের পথ না মাড়িয়ে সরাসরি আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং হালাল মাধ্যম প্রার্থনা করা উচিত।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency