| বঙ্গাব্দ

মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক: আসিফ নজরুল

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-09-2026 ইং
  • 1989 বার পঠিত
মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক: আসিফ নজরুল
ছবির ক্যাপশন: ছাগল চুরির ঘটনা জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক: আসিফ নজরুল

মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক: আসিফ নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনাকে জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে অতিথি হয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীন ছাগল চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান, ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বিরোধের জেরে আসিফ নজরুলের শিশুকন্যার পোষা ছাগল নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রতিশোধমূলক কোনো কর্মকাণ্ড ছিল কি না।

জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ছাত্রদের মধ্যে যারা ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—নাহিদ, আসিফ ও আখতার—তাদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ তুলনামূলক কম ছিল। এ কারণে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছাগল চুরির প্রসঙ্গকে তিনি অত্যন্ত কষ্টের স্মৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ঘটনাটি তার জীবনে ঘটে যাওয়া অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা। তবে এটি প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল—এমন দাবি তিনি নাকচ করে দেন। বরং যারা এমন কথা বলেছেন, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঘটনাটি মজা হিসেবেই করা হয়েছিল।

আসিফ নজরুল জানান, ছাগলটি ছিল তার প্রায় সাড়ে ৯ বছর বয়সী মেয়ের পোষা প্রাণী। ফুল রোড থেকে হেয়ার রোডে যাওয়ার পর নতুন পরিবেশে মেয়েটি পরিচিত বন্ধুদের না পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ওই সময় তাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছাগলটির সঙ্গে মেয়েটির গভীর সখ্য তৈরি হয়েছিল। প্রতিদিন মেয়েটি স্কুলে যাওয়ার সময় ছাগলটি অপেক্ষা করত এবং স্কুল থেকে ফেরার পর তার সঙ্গে খেলত। এমনকি মেয়ের ফোনে মায়ের ছবির পাশাপাশি ছাগলটিকে জড়িয়ে থাকা ছবিও রাখা ছিল বলে জানান তিনি।

ঘটনার পর মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, সে কাঁদতে কাঁদতে বমি করে ফেলেছিল এবং প্রায় দেড় দিন কোনো খাবার খেতে পারেনি। সে সময় শিশুটি শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

তিনি জানান, ছাগলটিকে খেয়ে ফেলা হয়েছে—এ কথা তার মেয়ে এখনো জানে না। মেয়েটি বিষয়টি জানতে পারলে আরও ভেঙে পড়তে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছে, দরজা খোলা থাকায় ছাগলটি পালিয়ে গেছে।

ছাগলটি কীভাবে জবাই করা হয়েছিল, সে বিষয়েও অনুষ্ঠানে বিস্তারিত কথা বলেন আসিফ নজরুল। তার দাবি, প্রথমে ব্যবহৃত বঁটি দিয়ে ছাগলটি কাটা যাচ্ছিল না। পরে কাওরান বাজার থেকে ধারালো বঁটি এনে সেটি কাটা হয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তবে এ ঘটনা নিয়ে এতদিন তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেননি বলেও জানান। অনুষ্ঠানে প্রসঙ্গটি ওঠায় তিনি বিষয়টি তুলে ধরেছেন বলে উল্লেখ করেন।

ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তার কোনো গুরুতর বিরোধ ছিল না বলেও দাবি করেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, শেষ দিন পর্যন্ত নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনের সঙ্গে তার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল।

সূত্র: ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশো

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency