| বঙ্গাব্দ

টিআইবির প্রতিবেদন: এনসিপি কি বর্তমান সময়ের কিংস পার্টি?

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-08-2025 ইং
  • 3286498 বার পঠিত
টিআইবির প্রতিবেদন: এনসিপি কি বর্তমান সময়ের কিংস পার্টি?
ছবির ক্যাপশন: টিআইবির প্রতিবেদন

টিআইবি বলছে: জাতীয় নাগরিক পার্টিই বর্তমান সময়ের 'কিংস পার্টি'

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৪ আগস্ট ২০২৫
বিশেষ প্রতিবেদন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হচ্ছে সরকার-ঘনিষ্ঠভাবে গঠিত ‘কিংস পার্টি’। রাজধানীর ধানমন্ডিতে সোমবার টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে 'কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। সেখানে উঠে আসে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
"এটা গোপন কিছু না। এনসিপি-ই হচ্ছে সেই কিংস পার্টি। কারণ, এই দলের সঙ্গে যারা আছেন, তাদের মধ্যে দুজন সরকারে আছেন। ফলে এটিকে সরকার-ঘনিষ্ঠ পার্টি বলা যুক্তিসঙ্গত।"

তিনি আরো বলেন,
"৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর দেশের রাজনীতিতে এক অশুভ গন্তব্য শুরু হয়েছে। বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে দলবাজি, মামলা–বাণিজ্য, চাঁদাবাজি শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত।"

রাজনীতিতে সহিংসতা ও চাঁদাবাজির নগ্ন উত্থান

টিআইবির গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে ৪৭১টি রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটেছে। এতে ১২১ জন নিহত এবং ৫১৮৯ জন আহত হন।

গবেষণায় উঠে এসেছে,

  • এসব ঘটনার ৯২% ঘটেছে বিএনপির অংশগ্রহণে

  • ২২% আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণে

  • ৫% জামায়াতের এবং

  • ১% জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অংশগ্রহণে

এছাড়া, ঢাকা শহরের পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে প্রতিদিন ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে বলে টিআইবির পর্যবেক্ষণ। শুধু তাই নয়—সিলেটের কোয়ারি অঞ্চল, নদী, বালুমহাল, জলমহাল ইত্যাদি থেকে সম্পদ লুটপাট, সেতু ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো চিত্র উঠে আসে এই গবেষণায়।

টিআইবি বলেছে,
"সড়ক অবরোধ, থানাঘেরাও, আন্দোলন এবং 'মব' গঠনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করা হয়েছে।"

১৯৫০ থেকে ২০২৫: ইতিহাস কি নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছে?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে—১৯৫০ সাল থেকে শুরু হওয়া গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলো সবসময়ই ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত 'রাজনৈতিক প্রকল্পে' বাধা পেয়েছে।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ‘বিএনপি’ এবং এরশাদের ‘জাতীয় পার্টি’—এই দুইটি দলই গঠিত হয়েছিল ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে। একইভাবে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও ‘সুশাসনের নামে’ নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ার ব্যর্থ প্রয়াস দেখা গেছে।

এখন এনসিপি’র উত্থান সেই পুরনো চক্রেরই আধুনিক সংস্করণ বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নেতা-নেত্রীদের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট সংকেত

  • ড. কামাল হোসেন (২০২০): “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রধান বাধা হচ্ছে দলীয় লুটেরা সংস্কৃতি।”

  • শেখ হাসিনা (২০২৩): “আমরা গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করছি।”

  • মির্জা ফখরুল ইসলাম (২০২৪, জানুয়ারি): “সরকার পতনের পর গণতন্ত্র নয়, চাঁদাবাজরাই ক্ষমতায় এসেছে।”

বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভাঙনের যে চিত্র টিআইবি তুলে ধরেছে, তা নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত, 'নির্বাচন' কিংবা 'আন্দোলন'—দুই পথেই রাজনীতি দুর্বৃত্তায়নের শিকার হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় 'কিংস পার্টি'র আবির্ভাব শুধু একটি দল নয়, পুরো গণতন্ত্রকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সূত্র:

  • ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB), সংবাদ সম্মেলন, আগস্ট ২০২৫

  • যুগান্তর, ৪ আগস্ট ২০২৫

  • বাংলাদেশ রাজনৈতিক ইতিহাস সংকলন (মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ১৯৫০–২০২৫)

  • জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের দলিলপত্র (২০২০–২০২৪

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency