নলছিটিতে মাহফিলে চরমোনাই পীর: “মানুষ এখন ভালো ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের খোঁজে ভোট দিতে আগ্রহী”
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী, নীতিনিষ্ঠ ও সৎ নেতৃত্বকে ভোট দিতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে জনমানুষের কষ্ট, অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সংঘাতে তারা ক্লান্ত; তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোটাররা নতুন রাজনৈতিক ধারা দেখতে চান।
রোববার (২৩ নভেম্বর) রাতে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির নলছিটি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রেজাউল করীম বলেন, বিগত সময়ে ক্ষমতায় থাকা বিভিন্ন সরকার দেশের কৃষক, দিনমজুর, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অর্জিত টাকাকে অপচয় ও বিদেশে পাচারের মাধ্যমে অর্থনীতি দুর্বল করেছে। এ দেশের মানুষ স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও সুশাসন চায়। “চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের ভোটাধিকার দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি, এবং জনগণই ঠিক করবেন বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। সামনের নির্বাচন যেন নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ হয়—এটাই কাম্য।
মাহফিল শেষে ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর–নলছিটি) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজির জন্য দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন তিনি।
চরমোনাই পীরের বক্তব্য সরাসরি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেওয়া হলেও এর মূল সুরটি বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনীতিক ইতিহাসের সঙ্গেই সম্পৃক্ত —
| সময়কাল | রাজনৈতিক বাস্তবতা | বক্তব্যের প্রেক্ষাপটের মিল |
|---|---|---|
| ১৯৫০–১৯৭১ | ভাষা আন্দোলন → মুক্তিযুদ্ধ → স্বাধীন রাষ্ট্র | মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম বারবার জনগণের হাতে প্রত্যাবর্তন |
| ১৯৭৫–১৯৯০ | সামরিক শাসন, দমন-পীড়ন, গণঅভ্যুত্থান | স্বৈরাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনকেন্দ্রিক রাজনীতি |
| ১৯৯১–২০০৮ | বহুদলীয় গণতন্ত্র, তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন | ভোটাধিকার নিয়ে জনগণের সংবেদনশীলতা |
| ২০০৯–২০২৩ | উন্নয়ন–বিরোধী রাজনীতি দ্বন্দ্ব ও মানবাধিকার বিতর্ক | সুশাসনের প্রশ্ন এখন রাজনীতির কেন্দ্রে |
| ২০২৪–২০২৫ | সরকার পতন, তত্ত্বাবধায়কের পুনরাগমন, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা | নতুন নেতৃত্ব ও বিকল্প ধারার প্রতি জনগণের প্রত্যাশা |
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০২৪–২৫ সালের অস্থিরতার পর দেশের ভোটাররা “ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি নয়—সৎ, ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি” প্রত্যাশা করছে। ঠিক সেই জায়গা থেকেই ইসলামী আন্দোলন জনমতের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নেমেছে।
১) নৈতিক নেতৃত্বের দাবি — দুর্নীতিমুক্ত ও সেবামুখী রাজনীতির প্রতিশ্রুতি সামনে আনা
২) ভোটের মূল্যবোধে জোর — পরিবর্তনের ক্ষমতা জনগণের হাতে আছে
৩) গ্রামীণ ভোটারদের লক্ষ্য — কৃষক, দিনমজুর, শ্রমজীবী মানুষের আস্থা অর্জনকে অগ্রাধিকার
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের জাতীয় নির্বাচনে ধর্মীয় ভিত্তিক দলগুলোও নির্বাচনি কৌশলে অর্থনীতি, স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক উন্নয়ন—এই তিন বিষয়কে সামনে আনছে, যা অতীত নির্বাচনগুলোর তুলনায় নতুন রাজনৈতিক প্রবণতা।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণ : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
১) Bangladesh Political History – Banglapedia
২) UK House of Commons Library (২০২৫): Bangladesh: political transition and new caretaker government
৩) Reuters / Al Jazeera আর্কাইভ: বাংলাদেশ নির্বাচন–পরবর্তী রাজনৈতিক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |